32 C
Kolkata
October 5, 2026
Featured

স্কুলের ফি দিতে না পারায় ক্লাসের বাইরে দাঁড় করানো হয়েছিল সলমনকে

বাবার জবাব আজও মনে আছে

সংবাদ কলকাতা: আজ বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় তারকা সলমন খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিপুল সাফল্য এবং সম্পত্তির মালিক হলেও তাঁর শৈশবের দিনগুলি সবসময় এতটা স্বচ্ছল ছিল না। একসময় পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে সময়মতো স্কুলের ফি জমা দিতে না পারায় ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি কাজল ও টুইঙ্কল খন্নার একটি অনুষ্ঠানে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা।

সলমন জানান, ছোটবেলায় দুষ্টুমি করার জন্য তাঁকে প্রায়ই ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হত। তবে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় এমন একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে তাঁর কোনও দোষই ছিল না। স্কুলের ফি সময়মতো জমা না পড়ায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে সলমন জানান, তাঁর বাবা সেলিম খান বিষয়টি জানতে স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন শিক্ষিকা তাঁকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সলমনের কোনও দোষ নেই। সময়মতো স্কুলের ফি জমা না দেওয়ায় তাঁকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এই কথা শুনে সেলিম খান নাকি বলেছিলেন, ‘তা হলে তো আমাকে ওখানে দাঁড় করানো উচিত।’

এরপর সেলিম স্কুলের প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং টাকা জোগাড় করে ফি মেটানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ হয়নি। সলমনের দাবি, মাত্র দু’সপ্তাহ পর একই ঘটনা আবার ঘটে এবং ফের তাঁকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আমির খানও। সলমনের বক্তব্য শুনে আমির জানান, তাঁদের পরিবারেও একসময় স্কুলের ফি সময়মতো দেওয়া সম্ভব হত না। সেই কারণে প্রার্থনার সময়ে ফি বাকি থাকা পড়ুয়াদের নাম ঘোষণা করা হত বলেও জানান তিনি।

সলমনের শৈশবের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর বাবা সেলিম খানের সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বইয়ে এসেছিলেন সেলিম। সেই সময় মেরিন ড্রাইভ এলাকার একটি গেস্টহাউসে অর্ধেক ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। মাসে ভাড়া ছিল ৫৫ টাকা। তাঁর ইচ্ছে ছিল একদিন ১১০ টাকা দিয়ে পুরো ঘরটি ভাড়া নেওয়ার। কিন্তু সেই ইচ্ছে তখন পূরণ হয়নি।

অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীকালে চিত্রনাট্য লেখার দিকে মন দেন সেলিম খান। এরপর জাভেদ আখতারের সঙ্গে তৈরি হয় ঐতিহাসিক সেলিম-জাভেদ জুটি। ‘জ়নজীর’, ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’-এর মতো একাধিক কালজয়ী ছবির চিত্রনাট্য তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হয়। ধীরে ধীরে তাঁরা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া চিত্রনাট্যকার জুটিতে পরিণত হন।

বাবার মতোই সলমনের অভিনয়জীবনের শুরুটাও ছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বড়পর্দায় অভিনয়ের আগে শশীলাল কে নায়ারের ‘ফলক’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন সলমন।

এর পরেই সূরজ বরজাতিয়ার ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ ছবিতে নায়ক হিসেবে সুযোগ পান তিনি। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় এবং রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সলমন। তবে সেই সাফল্যের পরও তাঁর কাছে সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসেনি।

এক অনুষ্ঠানে সলমন জানিয়েছিলেন, ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ মুক্তির পর প্রায় চার-পাঁচ মাস কোনও কাজ পাননি তিনি। সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর কোনও ছবিতে কাজ করার সুযোগ পাবেন না। ছবির নায়িকা ভাগ্যশ্রী বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবং অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানোয় পরবর্তী ছবির ক্ষেত্রে সমস্যাও তৈরি হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা।

পরিস্থিতি বদলাতে ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সেলিম খান। প্রযোজক জিপি সিপ্পীকে দিয়ে সলমনকে একটি ছবির জন্য সই করানোর ঘোষণা প্রকাশ্যে করানো হয়। সেই খবর একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হওয়ার পরই নাকি সলমনের কাছে একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে শুরু করে।

অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে সলমনের পারিশ্রমিকও ছিল আজকের তুলনায় অত্যন্ত কম। ১৯৮৯ সালে তাঁর প্রথম ছবির জন্য পারিশ্রমিক ছিল ৩১ হাজার টাকা। পরে তাঁর কাজ এবং নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে সেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়।

এমনকি অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেও খুব অল্প পারিশ্রমিকে কাজ করেছিলেন সলমন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে পারফর্ম করে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৭৫ টাকা।

আজ সেই সলমন খানই বলিউডের অন্যতম বড় তারকা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়। তবে শৈশবে স্কুলের ফি দিতে না পারার ঘটনা থেকে শুরু করে অভিনয়জীবনের প্রথম দিকে কাজের অভাব—সলমনের জীবনেও যে দীর্ঘ সংগ্রামের অধ্যায় রয়েছে, পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে সেটাই আরও একবার সামনে আনলেন অভিনেতা।

বর্তমানে সলমন তাঁর পরবর্তী ছবি ‘মাতৃভূমি’-র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ১০০ কোটির বেশি হতে পারে বলে খবর। দীপাবলির পর ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নয়নতারার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবির কাজও চলছে।

Related posts

Leave a Comment