দিল্লি, ১৪ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে লোকসভায় বিদ্রোহী সাংসদদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নিলেন। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক ফ্রন্ট গঠনের পথ থেকে সরে এসে ত্রিপুরাভিত্তিক রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে মিশে সিদ্ধান্ত নিলেন। এই দলেরই সদস্য এখন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় থেকে শুরু করে দেব, সায়নী ঘোষরা। এই দল এখন সমর্থন করবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে।
রবিবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথকভাবে বসার আবেদন জানিয়ে চিঠি জমা দেন। প্রথমে ২০ জন সাংসদের কথা সামনে এলেও পরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা ২৩ জন সাংসদ ছিলাম, যারা লোকসভা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানে আমরা চিঠি দিয়েছি। আপাতত আমরা এনসিপিআই-এ যোগ দিচ্ছি।’ তবে ভবিষ্যতে তৃণমূলের প্রতীক এবং সংগঠন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এরপর আমরা তৃণমূলের লোগোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে কেস লড়ব।’
জানা গিয়েছে, রবিবার দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব (দীপক অধিকারী), শতাব্দী রায়, প্রসূন মুখার্জি, শর্মিলা সরকার, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া, বাপি হালদার, মালা রায়। ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর সায়নী ঘোষ এবং দেব উভয়েই লোকসভা অধ্যক্ষের বাড়িতে না গিয়ে হোটেলে ফিরে যান।
এই বৈঠক যখন চলছে, তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি লোকসভার স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ। যদিও স্পিকারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা রবিবারই ভূপেন্দ্র যাদবের নির্দেশে এবং বিপ্লব দেবের সহযোগিতায় ত্রিপুরার এনসিপিআই দলে যোগ দেবার তোড়জোড় শুরু করেন।
রাতের দিকে দিল্লির বঙ্গভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যদিও বঙ্গভবন সূত্রের খবর, প্রথমে ২০ জন সাংসদের খাবার অর্ডার করা হয়। মেনুতে ছিল এলাহি খাওয়া-দাওয়া। যে টেবিলে বসে তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা খাবার খাবেন, সেগুলিও সাজানো হয় গেরুয়া টিবিল ক্লথ দিয়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় স্তরে জোট রাজনীতির উপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
