31 C
Kolkata
October 21, 2026
রাজ্য

টাকির বিসর্জনে কড়া নিরাপত্তা, নদীতে বিএসএফের টহল

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রাজবাড়ি ঘাটে দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। দুই বাংলার ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইছামতী নদীতে প্রতি বছরের মতো এবারও হবে প্রতিমা বিসর্জন। সেই অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

রাজবাড়ি ঘাট চত্বরকে মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে। সূত্রের খবর, ঘাট এলাকায় আনুমানিক ১৪টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে বিসর্জন চলাকালীন পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখবেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেও এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু ঘাটের স্থলভাগেই নয়, ইছামতী নদীতেও চলছে কড়া নজরদারি। নদীর মাঝ বরাবর নৌকা নিয়ে টহল দিচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও পুলিশ। সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নদীকে দুই ভাগে ভাগ করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, বিসর্জনের আবহে কোনওভাবেই যেন সীমান্তের নিয়ম লঙ্ঘিত না হয়।



প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিসর্জনের সময় কোনও ভারতীয় নাগরিক যাতে ভুলবশত বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ না করেন, আবার কোনও বাংলাদেশি নাগরিকও যাতে ভারতের সীমানায় চলে না আসেন, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা। ইছামতী নদীর মাঝ বরাবর বিএসএফের নৌকা দিয়ে কার্যত একটি অদৃশ্য সীমারেখা তৈরি করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎসবের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

টাকি রাজবাড়ি ঘাটের বিসর্জন কেবল ধর্মীয় আচার নয়, দুই বাংলার মানুষের কাছে তা ঐতিহ্য ও আবেগেরও প্রতীক। ইছামতী নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দুই বাংলার মানুষের এই উৎসব দেখা বহু বছরের রীতি। সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হয়, সে জন্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।

স্থানীয় রীতি মেনে টাকি রাজবাড়ির প্রতিমা প্রথমে ইছামতী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। তার আগে প্রতিমাকে বরণ করেন মহিলারা। এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলা। উৎসবের এই আবেগঘন মুহূর্তগুলিকে ঘিরে ঘাটে মানুষের ভিড় বাড়লেও নিরাপত্তা ও সীমান্তের নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

Related posts

Leave a Comment