31 C
Kolkata
October 21, 2026
রাজ্য

বিসর্জন তদারকিতে ১৮ আইপিএস, কলকাতায় ১২

সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কলকাতা-সহ রাজ্যের চারটি শহরে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করল রাজ্য পুলিশ। বিসর্জন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশ এলাকায়। বাকি ছ’জন হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় বিসর্জনের পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। মঙ্গলবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর, দশমী থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন চলাকালীন দায়িত্ব সামলাবেন আইপিএস আধিকারিকেরা। কোন দিন কোন আধিকারিক কোথায় দায়িত্বে থাকবেন, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন ঘিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর বিসর্জন তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন গৌরব শর্মা, সোমা দাস মিত্র, রশিদ মুনির খান, আকাশ মাঘারিয়া, সুরেশকুমার চাডিভে এবং ধৃতিমান সরকার। অন্যদিকে, ২২ ও ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব সামলাবেন প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, ইমরান ওয়াহাব, শীষ রাম ঝাঝরিয়া, সৌম্য রায়, পারিজাত বিশ্বাস এবং সিদ্ধার্থ ধাপোলা।



কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগরেও বিসর্জন ঘিরে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া পুলিশ জেলায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস ইন্দ্র চক্রবর্তী। ২২ ও ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব পালন করবেন আভারু রবীন্দ্রনাথ। ব্যারাকপুর পুলিশ জেলায় বিসর্জন তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন পলাশচন্দ্র ঢালি ও দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। চন্দননগরে দায়িত্ব সামলাবেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ মণ্ডল।

গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর দিন কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সেই ঘটনার পর পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভুয়ো ঘোষণা করে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও ওঠে। ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনার পর থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পুজোর ভিড় সামলাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণেও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই আইপিএস আধিকারিকদের সরাসরি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment