আরজি কর কাণ্ডে ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার সভা থেকে শুভেন্দুর দাবি, আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের আমলে অভিষেকের ‘হিসাব-বহির্ভূত সম্পত্তি বৃদ্ধি’ নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শনিবার ছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম জেলাসফর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে তিনি ফলতায় পুনর্নির্বাচন উপলক্ষে সভা করেন। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসঙ্গে নিশানা করেন শুভেন্দু।
আরজি কর কাণ্ড প্রসঙ্গে শুক্রবারই তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার ফলতার সভায় সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় যাঁরা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন, অভয়ার মাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সেই তিন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন।’
এ দিনের সভা থেকে বারুইপুর ও ক্যানিংয়ের পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারে যুক্ত ছিলেন ওই আধিকারিকরা। সেই কারণেই বারুইপুরের আইসি এবং ক্যানিংয়ের আইসি অমিত হাতিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কথায়, ‘ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা অত্যাচার করেছে, সব সামনে আনা হবে।’ সেই সঙ্গে আরজি কর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তদন্তে প্রাক্তন সরকারের একাধিক ‘কুকীর্তি’ সামনে আসবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। নাম না করে তিনি জানান, কলকাতা পুরসভা থেকে সম্পত্তির নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কলকাতায় একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। আমতায় প্রাসাদসম অফিস তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সব কিছুর হিসাব হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বার বার উঠে এসেছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নাম। ইডির অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ আগেই খারিজ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধু সম্পত্তি নয়, নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়েও অভিষেককে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর তাঁর সভায় আসা কর্মীদের মারধরের অভিযোগও তোলেন তিনি।
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১০ বছর ফলতার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের পরে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু।
সভা থেকে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছর বা তার আগের সমস্ত অত্যাচারের অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। এফআইআর দায়ের করতে হবে। সরকারি প্রকল্পে ঘুষ নেওয়া, মহিলাদের উপর নির্যাতন— কোনও অভিযোগই আর চাপা থাকবে না বলে জানান তিনি।
অন্য দিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, আরজি কর মামলায় সিবিআই যাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, তাঁর বাইরে আর কাউকে খুঁজে পায়নি। এখন পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে কুণালের বক্তব্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে সংস্থাই নিজেদের বক্তব্য জানাবে।
