29 C
Kolkata
May 16, 2026
রাজ্য

শান্তনু প্রসঙ্গে ‘অবাক’ সাংবাদিকদের নিশানা, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক সুদীপ্ত গুহ

শান্তনু সিংহা বিশ্বাসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের আবহে সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুদীপ্ত গুহ। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত দীর্ঘ মন্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, শান্তনু সিংহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ, বয়স্ক মানুষদের প্রভাবিত করে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ বহু বছর ধরেই প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন ইউটিউব সাংবাদিক, টেলিভিশন মাধ্যম এবং বিকল্প সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

সুদীপ্তর অভিযোগ, সেই সময় মূলধারার অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিল। তাঁর কথায়, ‘আজ একজন বিখ্যাত সাংবাদিক অবাক হচ্ছেন যে শান্তনু নাকি বয়স্ক মানুষের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন। এটা সাংবাদিকতা না ন্যাকামো?’

নিজের বক্তব্যে তিনি বাংলার ভূমি সংস্কার রাজনীতি এবং অতীতের জমি দখলের ঘটনাও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, বিধান রায় থেকে অজয় মুখার্জীর আমল পর্যন্ত বহু হিন্দু জমিদারের জমি কেড়ে নেওয়া হলেও কিছু প্রভাবশালী মুসলিম জমিদারকে বাদ রাখা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গে কমল গুহর নেতৃত্বে রাজবংশী এবং কোচবিহার রাজপরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও তোলেন তিনি।

জঙ্গলমহলে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি এবং মাহাতো সম্প্রদায়ের জমি বেহাত হওয়ার ঘটনাতেও তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের নীরবতার অভিযোগ করেছেন সুদীপ্ত। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ বামপন্থী প্রভাবের অধীনে থাকায় প্রতিবাদ হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, ভূমি সংস্কারের নামে ‘হিন্দু বাঙালির জমি লুট’কে সমর্থন করেছিল কিছু সংবাদমাধ্যম। একই সঙ্গে আনন্দবাজার গোষ্ঠীর একাংশকেও কটাক্ষ করেন তিনি। যদিও তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শুধু শান্তনু সিংহা বিশ্বাস নন, গোটা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংগঠিত জমি দখলের অভিযোগও তোলেন সুদীপ্ত গুহ। তাঁর দাবি, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, দুর্গাপুর, বোলপুর এবং নৈহাটির মতো বিভিন্ন জায়গায় একই পদ্ধতিতে জমি দখল হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের একাংশ, ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং রাজনৈতিক নেতাদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় সুদীপ্ত বলেন, এখন অনেকেই অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, মানুষ সব কিছু ভুলে যায়নি। সমাজমাধ্যমে তাঁর এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তবে সুদীপ্ত গুহর এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি এই প্রতিবেদন।

Related posts

Leave a Comment