সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর সময়ে পুজো প্রাঙ্গণে কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা রয়েছে। মুসলিম, বৌদ্ধ, আদিবাসী-সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীন ভাবে চলতে পারেন। কিন্তু সনাতন ধর্মকে নিশানা করে কোনও ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
বামপন্থী অধ্যাপকদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, কপালে তিলক, মাথায় শিখা, গলায় তুলসীর মালা কিংবা গেরুয়া পোশাক পরাকে কেন উদ্দেশ্য করে আক্রমণ করা হবে? তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীদের একাংশ সনাতন ধর্মকে শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক বিষয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
দুর্গাপুজোর নামের ব্যবহার নিয়েও বিধানসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অনেক বামপন্থী ‘দুর্গাপুজো’ না বলে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করতে বেশি স্বচ্ছন্দ। এই প্রবণতার বিরোধিতা করে তিনি রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে বলেন, কোনও কমিউনিস্ট সংগঠন বা ব্যক্তি পুজো প্রাঙ্গণে বইয়ের স্টল করতে এলে সেখানে স্পষ্ট ভাবে ‘দুর্গাপূজা’ লেখা থাকতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয় বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলায় নকশাল আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে যে বামপন্থী মতাদর্শের প্রভাব তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে দেশবিরোধী চিন্তাভাবনার বীজ রয়েছে। সেই প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করার সময় এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রয়োজনে এই লড়াই দীর্ঘায়িত হলেও সরকার ও রাজ্যবাসী পিছিয়ে যাবে না বলে বিধানসভায় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরেই সিপিএমের দীর্ঘ শাসনকাল নিয়েও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, গরিব মানুষের টাকা লুট করে রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছিল সিপিএম। সাধারণ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় ঘনিষ্ঠদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এমনকি এক এক জন সিপিএম নেতার পরিবারের প্রায় ২০ জন করে সরকারি চাকরি পেয়েছেন বলেও বিধানসভায় গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের অতীতের অনিয়মের হিসাব শুধু সাম্প্রতিক ১৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার সঙ্গে সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকালও যুক্ত করে সমস্ত অনিয়মের তালিকা তৈরি করা হবে।
শুভেন্দু আরও বলেন, দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ বা দুর্গাপুজোর প্রকাশনাকে ‘শারদ সংখ্যা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সনাতন ধর্ম ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত পরিচয়কে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরার পক্ষেই তিনি সওয়াল করেন। বিধানসভায় তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
