নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি— ভোররাতে আচমকা বিএসএফ ও পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলল বৃহন্নলাদের বসতবাড়ি। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রায়কতপাড়া এলাকায় এই অভিযানকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বৃহন্নলাদের বাড়িতে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে কি না এবং কোনও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর রায়কতপাড়া এলাকায় প্রায় সাত-আট বছর ধরে ৩০ থেকে ৫০ জন বৃহন্নলা বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে আচমকাই বিএসএফ ও পুলিশের আধিকারিকরা বড় বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছন। এরপর ওই চত্বর ঘিরে ফেলা হয়। তিনটি বাড়ির ছাদেও বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়। বাড়ির আশপাশের এলাকা এবং বিভিন্ন আনাচ-কানাচেও চলে তল্লাশি।
সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে ওই এলাকায় বসবাসকারী বৃহন্নলাদের একাংশের বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষের ওই বাড়িগুলিতে যাতায়াত রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি। সম্প্রতি মনসা পুজো ঘিরে সেখানে বড় আয়োজনও করা হয়েছিল। এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেই বিএসএফের অভিযান বলে জানা যাচ্ছে।

তবে তল্লাশি ঘিরে কোনও অবৈধ অস্ত্র বা বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান মিলেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযান চলাকালীন গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়। বাড়ির চারপাশে বিএসএফ জওয়ানদের টহল দিতেও দেখা যায়।
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি মৌমন চক্রবর্তী জানান, বিএসএফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশকে অভিযানে ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বিএসএফ সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বৃহন্নলাদের বাড়িতে অভিযানে এসেছে। আমাদেরও ডাকা হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে অবৈধ কোনও কার্যকলাপের খবর পেয়েই বিএসএফ তল্লাশি চালাচ্ছে।’
জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীনিবাস এমপি জানান, তল্লাশি চলছে। অভিযান শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এদিকে অভিযানের বিষয়ে বৃহন্নলা মানবী হালদার দাবি করেন, তাঁদের কেন তল্লাশি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তাঁর কথায়, ‘সকাল থেকে পুলিশ ও বিএসএফ এসেছে। এখনও তল্লাশি চলছে। কেন এসেছে আমাদের জানায়নি।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় কতজন রয়েছেন, সেই গণনাও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি নাগরিক থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মানবী। তাঁর দাবি, ‘বাংলাদেশের কেউ আমাদের এখানে নেই। আমাদের সবার কাগজ আছে।’ তাঁর আরও দাবি, তল্লাশিতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্রও পাওয়া যায়নি।
বিএসএফের এই অভিযানের প্রকৃত কারণ এবং তল্লাশিতে শেষ পর্যন্ত কী পাওয়া গেল, তা নিয়ে এখন জলপাইগুড়ি পুরসভা এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
