25 C
Kolkata
October 18, 2026
দেশ বিদেশ

শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক অধিকার, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লি— শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায় না। শিশুদেরও ইন্টারনেটে প্রবেশ ও তা ব্যবহারের মৌলিক অধিকার রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত এই অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি অনলাইন জগতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শনিবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ সমাজমাধ্যম-সহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তু শনাক্ত করা এবং সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিতে গিয়ে এই পর্যবেক্ষণ জানায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে শিশুদের জন্য আলাদা ‘চাইল্ড মোড’ চালুর মতো ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করেছে আদালত।

আদালতের বক্তব্য, শিশুদের বয়স যা-ই হোক, তাদেরও মৌলিক অধিকার রয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সের নীচে থাকা শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা নিজস্ব বিবেকবোধ নেই, এমন ধারণা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনই তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত নয়।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের স্বাধীনতা পরস্পরের বিরোধী নয়। শিশুরা দু’টিই পাওয়ার অধিকারী।’

অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের সামনে নানা ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে মেনে নিয়েছে আদালত। তবে সেই ঝুঁকি মোকাবিলার নামে শিশুদের ইন্টারনেট থেকে দূরে সরিয়ে রাখা সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয় বলেও জানিয়েছে বেঞ্চ। অনলাইন মঞ্চগুলি ক্ষতিকর বিষয়বস্তু শনাক্ত ও অপসারণে ব্যর্থ হলে তার দায় শিশুদের উপর চাপানো উচিত নয়। বরং ক্ষতিকর বিষয়বস্তু ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে আদালত আরও জানিয়েছে, সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে তথ্য ও ধারণা জানা, গ্রহণ করা এবং অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। ইন্টারনেট শুধু বিনোদন বা সমাজমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষা, যোগাযোগ, সৃজনশীল প্রকাশ এবং জ্ঞান অর্জনেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বহু শিশুর কাছে ইন্টারনেটই শেখা ও তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রেও অনলাইন মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেছে আদালত। একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে থাকা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং সঙ্গ লাভের সুযোগ করে দিতে পারে ইন্টারনেট।

তাই শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন, যাতে তাদের ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমে, অথচ তথ্য জানার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে। শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবহারের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব সেই ভাবনারই অংশ।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অনলাইন জগতে শিশুদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দায়িত্ব প্রযুক্তি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই পর্যবেক্ষণের মূল বার্তা।

Related posts

Leave a Comment