July 24, 2026
দেশ

২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার সোনম ওয়াংচুকের, কেন্দ্রের আশ্বাসের পর আন্দোলনে নতুন মোড়

দিল্লি: সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন। গুরুগ্রামের মেডান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পরই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া বজায় রাখার বিষয়ে কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

গত ২৬ দিন ধরে চলা এই অনশন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এর আগে তিনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, সরকার যদি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তা হলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের লক্ষ্যে আইন আনার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক তরজাও অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী নেতারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। যদিও দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, জন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে রাতারাতি কোনও অভিযানের পরিকল্পনা নেই এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আবেদনও করেছে।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের পর এখন নজর কেন্দ্র সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment