27 C
Kolkata
September 9, 2026
রাজ্য

যাদবপুরে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’, দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে সরব শুভেন্দু

‘এবার বেদ পাঠে যাদবপুর আসব’

সংবাদ কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই বুধবার গোলপার্ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডে সভা থেকে সংবাদমাধ্যমের একাংশের শব্দচয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওঠা কয়েকটি স্লোগান এবং তথাকথিত দেশবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি।

গেরুয়া রং নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও ‘অপশব্দ’ ব্যবহারের আগে অন্তত পাঁচ বার ভাবার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়ার অপমান বাংলা মেনে নেবে না। পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ এবং কিষেণজিকে সমর্থন করে ‘লাল সেলাম’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দেশবিরোধী মানসিকতার অভিযোগের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী গীতা পাঠ (Bhagavad Gita Recitation) এবং হনুমান চালিশা পাঠ (Hanuman Chalisa Recitation) আয়োজন করা হবে। দেশের ভিতরে থেকে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে এমন শক্তির বিরুদ্ধে আধ্যাত্মিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবনাকে সামনে রাখার বার্তা দেন তিনি।

এ দিনের সভায় অতীতের বাম শাসন নিয়েও আক্রমণাত্মক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্ট শাসনের সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chattopadhyay), শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Sarat Chandra Chattopadhyay) এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (Ishwar Chandra Vidyasagar) মতো ব্যক্তিত্ব যথাযথ মর্যাদা পেতেন না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) এবং রবীন্দ্রনাথকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ‘থ্রেট কালচার’ (Threat Culture) বা ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা, জাতীয়তাবাদ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথাই তিনি তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, তা মানুষের সমর্থনে বাস্তবায়িত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন (Special Assembly Session) বসতে চলেছে। শিক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল (Education Amendment Bill) নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা। সেই প্রসঙ্গ টেনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঋষি অরবিন্দ (Sri Aurobindo) ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে ঐতিহাসিক ভাবে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে দেশবিরোধী সংস্কৃতি এবং সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা দূর করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এর আগে রাখি পূর্ণিমার দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ (10,000 Voices Vande Mataram) কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একাধিক সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রতিবাদে আয়োজিত সেই কর্মসূচিতেও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, দেশবিরোধী স্লোগানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিতর্কের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment