35.2 C
Kolkata
June 22, 2026
দেশ

শিব সেনা (ইউবিটি)-তে নতুন ভাঙনের জল্পনা, দল ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার সাংসদ, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন টাইগার’ অভিযোগ আদিত্যর

মুম্বাই —মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের তীব্র জল্পনা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিব সেনা (ইউবিটি)-র অন্দরে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলের এক সাংসদ প্রকাশ্যে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন টাইগার’-এর মাধ্যমে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আদিত্য ঠাকরে|

এই পরিস্থিতিতে জল্পনা ছড়িয়েছে, শিব সেনা (ইউবিটি)-র ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিব সেনায় যোগ দিতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।

হিঙ্গোলির সাংসদ নাগেশ পাটিল অষ্টিকার একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি শিব সেনা (ইউবিটি) ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ থেকে নেওয়া হয়নি। বরং দলের অভ্যন্তরে বিশ্বাসের সংকট এবং সাংসদদের প্রতি আচরণই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

নাগেশ পাটিল অষ্টিকারের বক্তব্য, সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে কয়েকজন সাংসদ অনুপস্থিত থাকার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় এবং নানা কটূক্তি করা হয়। এর ফলে দলের মধ্যে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যখন বিশ্বাসই থাকে না, তখন দলে থেকে কাজ করার কোনও অর্থ থাকে না।’

শুধু সাংগঠনিক কারণ নয়, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অষ্টিকার। তিনি বলেন, সাংসদ তহবিলের ৫ কোটি টাকা দিয়ে এলাকার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলের সাংসদ হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেই তাঁর অভিযোগ।

সম্প্রতি দিল্লিতে শিব সেনা (ইউবিটি)-র সংসদীয় দলের বৈঠকে ছয় সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়েই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। অনুপস্থিত সাংসদদের মধ্যে ছিলেন নাগেশ পাটিল অষ্টিকার, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বালকর এবং ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে। তাঁদের অনুপস্থিতির পর থেকেই দলবদলের জল্পনা তীব্র হয়।

অন্যদিকে মুম্বাইয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন আদিত্য ঠাকরে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করতে এবং নিজেদের সাংসদ সংখ্যা বাড়াতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলে টানার চেষ্টা করছে। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তাকে অগ্রাহ্য করেই এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

আদিত্য ঠাকরে বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে মানুষ যে বার্তা দিয়েছে, তা মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বিরোধী দলগুলিকে ভাঙার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতিরও সমালোচনা করেন। অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও যদি কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে তার দায় এড়ানো যায় না।

শিব সেনা (ইউবিটি)-র রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউতও বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, শিব সেনার বিভাজন মানে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐক্যকে আঘাত করা। বিদ্রোহী নেতাদের উন্নয়নের যুক্তিকেও তিনি প্রশ্নের মুখে তুলেছেন।

দলের অন্দরে অসন্তোষের আবহে পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছেন উদ্ধব ঠাকরে। দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং সংগঠনকে চাঙ্গা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। আগামী ২৭ জুন যবতমাল থেকে এই সফর শুরু হবে। এরপর ওয়াশিম, হিঙ্গোলি, পরভানি, ধারাশিব এবং শিরডি সফর করবেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ যেসব লোকসভা কেন্দ্রে বিদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে, সেখানেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলের সংগঠন ধরে রাখার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

এরই মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে নাগেশ পাটিল অষ্টিকারের ছেলে কৃষ্ণ নাগেশ পাটিলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে শিব সেনা (ইউবিটি)। ফলে সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে সম্ভাব্য দলত্যাগ, অন্যদিকে পাল্টা সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ— এই দ্বৈরথ আগামী দিনে শিব সেনা (ইউবিটি)-র ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related posts

Leave a Comment