সংবাদ কলকাতা: সন্দেশখালির বয়ারমারি এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল দু’জনের। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক জন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না প্রাক্তন বিধায়ক। ঘটনার পর থেকেই গাড়ির চালক পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমার মাহাতোকে আনতে তাঁর নতুন চালক স্করপিয়ো গাড়ি নিয়ে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মালঞ্চের দিক থেকে যাত্রী নিয়ে সন্দেশখালির দিকে যাচ্ছিল একটি টোটো। বয়ারমারি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি টোটোকে সামনাসামনি ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাতে দু’টি গাড়িই রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের উদ্ধার করে মিনাখাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা টোটোচালক মুজিবুর রহমান (৪৭) এবং যাত্রী মহিমা বিবি (৫০)-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরও এক জন বর্তমানে মিনাখাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ন্যাজাট থানার পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর মোল্লা বলেন, ‘আমরা পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দেখি, কালো স্করপিয়ো গাড়িটি টোটোতে ধাক্কা মেরে সোজা পুকুরে পড়ে গেল। আমরা চিৎকার করে লোকজন জড়ো করি। পুকুরে নেমে স্করপিয়ো গাড়িটি সরিয়ে তার তলা থেকে টোটোটি বের করি। ভিতরে এক জন মহিলা ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করতে আমাদের অনেক সময় লেগেছিল।’

ঘটনাস্থলে পৌঁছন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। তিনি মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোকেও অনুরোধ জানান।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সুকুমার মাহাতো বলেন, ‘আমি গাড়িচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। সে এখন কোথায় আছে, জানি না। আমি গাড়িতে থাকি বা না থাকি, যেহেতু আমার গাড়ির ধাক্কায় দু’জনের প্রাণ গিয়েছে, তাই ওই দু’টি পরিবারের পাশে থাকব। সব রকম সাহায্য করব। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের পাশেও আছি।’
দুর্ঘটনার পর থেকে চালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। কী ভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং চালক কোথায় রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
