রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাইল সংগঠন
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির স্টেট এডেড কলেজ টিচার (স্যাক্ট) শিক্ষকদের পরিষেবা কাঠামো ও বেতন বৈষম্য নিয়ে ফের সরব হল স্টেট এডেড কলেজ টিচার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বহু সরকারি অনুমোদিত পার্ট-টাইম শিক্ষক এখনও তাঁদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিকা মেনে রাজ্য সরকার সরকারি অনুমোদিত পার্ট-টাইম শিক্ষকদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি করে এবং ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে ২০১৯ সালে প্রকাশিত সরকারি নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত পার্ট-টাইম শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক এবং নবনিযুক্ত অতিথি শিক্ষকদের একত্রিত করে ‘স্টেট এডেড কলেজ টিচার’ বা স্যাক্ট নামে নতুন কাঠামো গঠন করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পরিষেবা শর্ত, বেতন কাঠামো এবং অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বলে দাবি সংগঠনের।
স্টেট এডেড কলেজ টিচার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে বেতনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রবীণ শিক্ষকদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নবীনদের বেতন বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিন কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্যাক্ট-১ এবং স্যাক্ট-২ নামে বিভাজনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠন।
সংগঠনের আরও দাবি, পরিষেবা কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। বেতন নির্ধারণে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন কাঠামো গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী স্যাক্ট শিক্ষকদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও সংগঠনের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয় এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যের সমস্যারও সমাধান করে না।
স্টেট এডেড কলেজ টিচার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি অরুণ কুমার পাল বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমাদের কথা মনে রেখেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমরা চাই, বিষয়টি আরও একবার পুনর্বিবেচনা করা হোক। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই সামান্য বৃদ্ধি শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণ করে না। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সকল স্যাক্ট শিক্ষকের জন্য একটি সামগ্রিক ও ন্যায্য পরিষেবা কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন।’
সংগঠনের দাবি, ২০১০ সালে সরকারি অনুমোদিত পার্ট-টাইম শিক্ষকদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারি নির্দেশিকা জারি হলেও তাঁদের পরিষেবা ও আর্থিক সুবিধায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ২০১৯ সালে স্যাক্ট ব্যবস্থা চালুর পর দীর্ঘদিন কর্মরত বহু শিক্ষক আরও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ সংগঠনের।
এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও কোনও পৃথক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠন জানিয়েছে, তারা শিক্ষা দপ্তরের কাছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন পরিষেবা কাঠামো ঘোষণার দাবি অব্যাহত রাখবে।
