June 26, 2026
দেশ

রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি: নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের, গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত


অযোধ্যা, ২৬ জুন: রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান তছরুপের অভিযোগে তদন্তে বড় মোড় এল। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে মামলায় নাম থাকা আট অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, ভক্তদের দেওয়া নগদ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রীর একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক পবন পাণ্ডে দাবি করেছিলেন, প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। সেই অভিযোগের পরই ১৪ জুন তিন সদস্যের SIT গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু। তদন্তকারীদের দাবি, এঁরা সকলেই মন্দিরের অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন এবং অনুদান আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজও হাতে এসেছে বলে পুলিশের দাবি।


তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধান অভিযুক্ত তিন্নু যাদব একসময় চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক ছিলেন। রামাশঙ্কর মিশ্র তাঁর ছেলে অনুকল্প মিশ্র এবং জামাই লাভকুশ মিশ্রকে অনুদান গণনার কাজে যুক্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ। লাভকুশের বাড়ি থেকে নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অবিনাশ শুক্লার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি। প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তব অনুদান গণনার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন এবং করুণেশ পাণ্ডে অনুদানের রসিদে কারচুপির অভিযোগে অভিযুক্ত। মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্ব স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার উপর ন্যস্ত ছিল।

এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি বলেন, তদন্তে সত্য সামনে আসবে এবং SIT-এর সুপারিশ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রমাণ ছাড়া রামভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত না করার আবেদনও জানান তিনি।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জেডিইউ মুখপাত্র নীরজ কুমারও অনুদানের অপব্যবহারকে অমার্জনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং SIT-এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

Related posts

Leave a Comment