30.3 C
Kolkata
June 3, 2026
দেশ

গরমে সুস্থ থাকতে দেশি পানীয়ের পরামর্শ মোদীর, ‘মন কি বাত’-এ উঠে এল আমপন্না-লস্যির কথা

নয়াদিল্লি, ৩ জুন: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়েছে, বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও জলশূন্যতার ঝুঁকিও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং শরীরের যত্ন নিতে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর জনপ্রিয় রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে গরমে শরীর ঠান্ডা ও সুস্থ রাখতে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী দেশি পানীয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজারচলতি এনার্জি ড্রিঙ্ক বা সফট ড্রিঙ্কের তুলনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পানীয় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী। এই পানীয়গুলি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং গরমের ধকল সামলাতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের আবেগ।

মোদীর উল্লেখ করা পানীয়গুলির মধ্যে রয়েছে আমপন্না, বেলের শরবত, পানাকম, কোকাম শরবত, গুড়ের শরবত এবং লস্যি। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এই পানীয়গুলিতে রাসায়নিকের ব্যবহার কম থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম।

গরমে বিশেষভাবে উপকারী হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আমপন্না বা কাঁচা আমের শরবতের কথা। কাঁচা আম, পুদিনা, ভাজা মশলা এবং গুড় বা চিনি দিয়ে তৈরি এই পানীয় শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অনেকের মতে, গরমে অরুচি কাটাতেও এটি কার্যকর।

এছাড়াও লস্যি-র কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দই থেকে তৈরি এই জনপ্রিয় পানীয়ে রয়েছে প্রোবায়োটিক, যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে দইয়ে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। উত্তর ভারতের জনপ্রিয় এই পানীয় এখন দেশের প্রায় সব প্রান্তেই সমান জনপ্রিয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে পর্যাপ্ত জল পান করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে হিটস্ট্রোক, ক্লান্তি ও জলশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন সময় এল, যখন দেশের বহু রাজ্যে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলতে, পর্যাপ্ত জল পান করতে এবং প্রাকৃতিক পানীয়কে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখতে।

Related posts

Leave a Comment