বেঙ্গালুরু — কর্নাটকে এক জনসভা থেকে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস বারবার সাধারণ মানুষ এবং নিজেদের শরিক দলগুলির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে ‘পরজীবী রাজনৈতিক শক্তি’ বলেও কটাক্ষ করেন।
আর্ট অফ লিভিং ফাউন্ডেশনের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেঙ্গালুরু সফরে গিয়ে বিজেপির কর্মসূচিতে অংশ নেন মোদী। সেখানে তিনি বলেন, ভুয়ো প্রতিশ্রুতি, দুর্বল প্রশাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই দেশের মানুষ ধীরে ধীরে কংগ্রেসের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কংগ্রেস যে রাজ্যে সরকার গড়েছে, সেখানে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। কারণ কংগ্রেস শুধু বিশ্বাসঘাতকতা করতে জানে। ওরা নিজেরাই মিথ্যাবাদী, আর ওদের প্রতিশ্রুতিও ভুয়ো। কংগ্রেসের রাজনীতিতে সুশাসনের কোনও অধ্যায় নেই।’
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে মোদী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেই কংগ্রেস শরিক দলগুলিকে ছেড়ে দেয়। তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সঙ্গে সম্পর্কের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
মোদীর কথায়, ‘এখনকার কংগ্রেস এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, টিকে থাকতে অন্য দলের কাঁধে ভর করতে হচ্ছে।’
বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা সংবিধান, আদালত এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা হারাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের বিরুদ্ধে এত বিদ্বেষ কোনও মূলধারার রাজনৈতিক দলের মধ্যে আমি আগে দেখিনি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বিরোধীরা এখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
