পোর্ট অব স্পেন — ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত গিরমিটিয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তাঁদের পূর্বপুরুষের শিকড় খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ভারতের জাতীয় মহাফেজখানা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জাতীয় মহাফেজখানার মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সহযোগিতা চুক্তি বহু মানুষকে তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
শনিবার ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ঐতিহাসিক নেলসন দ্বীপ পরিদর্শন করেন জয়শঙ্কর। এই দ্বীপেই প্রথম ভারতীয় গিরমিটিয়ারা এসে পৌঁছেছিলেন। ঔপনিবেশিক আমলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে বহু ভারতীয়কে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদেরই বংশধরদের গিরমিটিয়া বলা হয়।
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসরের সঙ্গে নেলসন দ্বীপে একটি ‘কুইক ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট’-এর উদ্বোধনেও অংশ নেন জয়শঙ্কর।
সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘নেলসন দ্বীপে প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধনে যোগ দিলাম। ভারতীয় সহায়তায় এই উদ্যোগ দুই দেশের যৌথ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সাহায্য করবে।’
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গিরমিটিয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর নির্দেশে আমরা একটি বিশেষ গিরমিটিয়া স্টাডিজ সেন্টার গড়ে তোলার কাজ করছি।’
তিনি আরও জানান, সদ্য স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের জাতীয় মহাফেজখানার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান সহজ হবে। এর ফলে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় বসবাসকারী বহু মানুষ তাঁদের ভারতীয় পূর্বপুরুষের পরিচয় এবং পারিবারিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ভারতের আর্থিক সহায়তায় নেলসন দ্বীপে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একাধিক প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মারক নির্মাণ, জাতীয় মহাফেজখানার ঐতিহাসিক নথির ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরি এবং ডিজিটাল অডিও-ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ১৮০ বছর আগে এখান থেকেই ভারত ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যাঁরা নতুন জীবন গড়ে তুলেছিলেন, তাঁদের সাহস ও দৃঢ়তাকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই।’
