চেন্নাই— দীর্ঘ রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক সি জোসেফ বিজয়। রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বিশ্বনাথ রাজেন্দ্র আর্লেকরের হাত থেকে শপথ নেন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগমের প্রতিষ্ঠাতা বিজয়। তাঁর শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুতে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র বাইরে অন্য কোনও দল সরকার গঠন করল। ফলে বহু দশকের দ্রাবিড় রাজনৈতিক দ্বৈরথে কার্যত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল।
শপথ নেওয়ার সময় বিজয় বলেন, ‘‘আমি সি জোসেফ বিজয়…’’। সেই মুহূর্তে গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁর সমর্থকেরা। শুধু অনুষ্ঠানস্থলই নয়, রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। কালো প্যান্ট, সাদা ফুলহাতা শার্ট এবং কালো ব্লেজারে দেখা যায় বিজয়কে। তাঁর সঙ্গে আরও ৯ জন মন্ত্রীও শপথ নেন, যাঁদের মধ্যে একজন মহিলা মন্ত্রীও রয়েছেন।
শপথের পরেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর হন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি দু’মাসে পরিবারপিছু ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য ‘সিঙ্গাপ্পেন’ নামে বিশেষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী গঠন এবং গোটা রাজ্যে মাদকবিরোধী বিশেষ ইউনিট তৈরি।
পরে প্রথম ভাষণে বিজয় পূর্বতন ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পূর্বতন সরকার রাজ্যের কোষাগার ফাঁকা করে গিয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
তিনি জানান, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে শীঘ্রই একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কিছুটা সময় চেয়ে নেন তিনি। বিজয়ের কথায়, ‘‘আমি কোনও অলৌকিক দূত নই। আমিও আপনাদের মতোই সাধারণ মানুষ। সব কিছু ঠিক করতে সময় লাগবে। তবে প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।’’
ডিএমকের প্রথম পরিবারের দিকে ইঙ্গিত করে বিজয় বলেন, ‘‘আমি কোনও রাজপরিবার বা ধনী পরিবারের সন্তান নই। একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে বড় হয়েছি। ক্ষুধা কাকে বলে, তা আমি জানি।’’
একই সঙ্গে স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, তাঁর সরকারের একটাই ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে। কোনও গোপন সমঝোতা বা আড়াল থেকে রাজনীতি চলবে না।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নেও বার্তা দেন বিজয়। তিনি বলেন, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের উন্নয়ন ও সুরক্ষাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
