August 25, 2026
দেশ বিদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে বন্দুক বার করে গুলি, পাকিস্তানি সেনা আধিকারিক হেফাজতে

ইসলামাবাদ— পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের এক সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামাবাদের সারহাদ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির চাথা বখতাওয়ার ক্যাম্পাসে। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেনা আধিকারিককে হেফাজতে নিয়ে সামরিক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই পড়ুয়াদের বিক্ষোভ চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ফি এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই বিক্ষোভের মধ্যেই এক বিশ্ববিদ্যালয় আধিকারিকের সঙ্গে পড়ুয়াদের বচসা শুরু হয়। ওই আধিকারিকের সঙ্গে থাকা তাঁর স্বামী, পাকিস্তান সেনার এক আধিকারিক, পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ইউনিফর্ম পরা ওই সেনা আধিকারিক প্রথমে এক ব্যক্তির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। পরে লাঠি হাতে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হলে কয়েক জন পড়ুয়া তাঁকে ঘিরে ফেলেন। তখন ওই আধিকারিক কোমর থেকে পিস্তল বার করে বিক্ষোভকারীদের দিকে তাক করেন বলে ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে।

এর পরেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকা এক মহিলা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন বলে ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি আগ্নেয়াস্ত্রটি উপরের দিকে তুলে গুলি চালান। গুলির শব্দে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর পাকিস্তান সেনার তরফে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে সামরিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। পদমর্যাদা নির্বিশেষে সামরিক আইন ও শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সূত্রের দাবি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে দুই ধরনের মত সামনে এসেছে। এক পক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক ওই সেনা আধিকারিকের স্ত্রী এবং তাঁকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর তাঁকে সাহায্য করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। অন্য পক্ষের প্রশ্ন, বেসামরিক পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মধ্যে একজন সেনা আধিকারিকের অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ এবং গুলি চালানোর মতো পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি কী।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভিডিয়োয় প্রথমে পড়ুয়াদের সঙ্গে সেনা আধিকারিকের সংঘর্ষ এবং পরে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র বার করার দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ওই মুহূর্তে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাই এখন নজরে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সামরিক আইন ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment