August 25, 2026
Uncategorized

১৬ বছরের জট কাটল, বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুরে মেট্রোর কাজ শুরুর পথে

সংবাদ কলকাতা— দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের জট কাটল। বিটি রোড বরাবর পিঙ্ক লাইন মেট্রো করিডর তৈরির জন্য কলকাতা পুরনিগমের তরফে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু বছর ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পথ খুলে গেল।

প্রকল্পটি নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা ছিল। মূল সমস্যা ছিল বিটি রোডের নীচে থাকা পানীয় জলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন। পলতা জলশোধন কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানীয় জল ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে টালা জলাধারে পৌঁছয়। মেট্রোর নির্মাণকাজের সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তর কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এই কারণেই প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডরের কাজ অনুমোদনের পরেও বাস্তবে এগোয়নি। ২০১০ সালে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার কারণে প্রকল্পটি কার্যত থমকে যায়|

এ বার সেই জট কাটাতে বিকল্প জল পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মেট্রোর কাজ চললেও যাতে শহরের পানীয় জল সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য পৃথক পাইপলাইন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এক দিকে মেট্রো নির্মাণের কাজ এগোবে, অন্য দিকে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও সচল রাখা সম্ভব হবে।

কলকাতা পুরনিগমের ছাড়পত্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, উত্তর কলকাতা ও শহরতলিতে দ্রুত গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। মেট্রো চালু হলে বরাহনগর, কামারহাটি, পানিহাটি, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড় এবং ব্যারাকপুরের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

প্রস্তাবিত এই মেট্রো করিডরে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। বরাহনগর থেকে শুরু করে কামারহাটি, আগরপাড়া, পানিহাটি, সুখচর, সোদপুর, খড়দহ, টাটা গেট, টিটাগড়, তালপুকুর হয়ে ব্যারাকপুর পর্যন্ত পৌঁছবে মেট্রো। পুরো পথটি উড়ালপথে নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিটি রোডের উপর যানবাহনের চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তর শহরতলি থেকে কলকাতার দিকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ যানজটের কারণে তাঁদের অনেক সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়। মেট্রো চালু হলে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণের একটি বিকল্প তৈরি হবে।

দীর্ঘদিনের এই প্রকল্প ঘিরে এর আগে একাধিক বার আলোচনা হলেও বাস্তবে কাজ শুরু করা যায়নি। জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত রেখে মেট্রোর কাজ কী ভাবে এগোনো যায়, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন জল পরিবহণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা সেই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বার কলকাতা পুরনিগমের ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু হতে চলেছে। ফলে বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত মেট্রোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তবের পথে এগোল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Related posts

Leave a Comment