30 C
Kolkata
July 4, 2026
রাজ্য

‘মনের মধ্যে আগুন রাখুন, কাজ করুন ঠান্ডা মাথায়’, বার্তা ওম বিড়লার

সংবাদ কলকাতা: বিধায়কদের উদ্দেশে সংযম, তথ্যভিত্তিক বক্তব্য এবং জনস্বার্থে কাজ করার বার্তা দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আয়োজিত বিধায়কদের সংসদীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মনের মধ্যে আগুন রাখুন, কিন্তু কাজ করুন ঠান্ডা মাথায়।” তাঁর বক্তব্য, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয় তাঁর যুক্তি, তথ্যনির্ভর বক্তব্য এবং মানুষের জন্য কাজের মধ্যেই ফুটে ওঠে।

কয়েক দিনের কলকাতা সফরে বিধায়কদের সংসদীয় রীতি, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং বিধানসভা পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিতে এসেছেন লোকসভার স্পিকার। শনিবার প্রশিক্ষণ শিবিরের শেষ দিনে তিনি বলেন, যেকোনও হাউসের নেতা হওয়া সহজ নয়। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে কথা বলার দক্ষতাই একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ওম বিড়লা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রেখেই বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাই প্রত্যেক বিধায়কের দায়িত্ব শুধু নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন নয়, গোটা রাজ্যের অগ্রগতির জন্যও কাজ করা। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাও তাঁদের অন্যতম কর্তব্য।

বক্তৃতার শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রথমবার আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, এখানে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একই সঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর জীবন ও দর্শন আজও তাঁকে অনুপ্রাণিত করে।

সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন লোকসভার স্পিকার। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী পক্ষের সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। সমালোচনায় যদি কোনও বাস্তব সমস্যা উঠে আসে, তবে তার সমাধানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত চেতনা।

আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে ওম বিড়লা বলেন, আইন সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি হয়। তাই নতুন আইন করার সময় মানুষের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কোনও সাধারণ মানুষ সমস্যা বা গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে তাঁদের কাছে এলে সেটিকে তাঁর শেষ ভরসা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সেই সমস্যার সমাধান করতে পারলেই একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব সার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জনপ্রতিনিধিদের সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং সমাজের শেষ সারির মানুষের জন্য আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

Related posts

Leave a Comment