সংবাদ কলকাতা: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ে বিশ্বের তিন প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পথে এগোচ্ছে নেপাল। ভারত, চিন এবং আমেরিকার নাম উল্লেখ করে কাঠমান্ডুর দাবি, এই দেশগুলির বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রভাব নেপালের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে বহন করতে হচ্ছে।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘কান্তিপুর টিভি’-কে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ আর্থিক সাহায্যের পরিবর্তে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’ চাইছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি মানবিক অনুদানের নয়; বরং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত।
গত ২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার পর নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিপর্যয় কাটিয়ে পরিকাঠামো ও জনজীবন পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, জলবায়ুজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ তহবিল থেকেও জরুরি আর্থিক সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কাঠমান্ডু।
আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় নেপালের এই দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সাধারণ সভায় নেপালের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। নিজেদের দাবির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়াতেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিষয়টি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রকের জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল আগেই
হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের মতো বিপর্যয়ের সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্রের কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে যেসব দেশের ভূমিকা তুলনামূলক বেশি, জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতি মূলত কম অবদান রাখা দেশগুলিকেই বেশি বহন করতে হচ্ছে।
নেপালের তরফে এবার সরাসরি ভারত, চিন ও আমেরিকার নাম করায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য কোনও একটি দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে সরাসরি দায়ী করার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আরও বিস্তারিতভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
