সংবাদ কলকাতা: বৃহস্পতিবার ভোররাতে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ছবি প্রকাশ করে অভিষেক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর অফিসে হামলা চালিয়েছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। বিজেপিকে দোষারোপ করার জন্য এটি তৃণমূলের সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা।
ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের নেতাদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরাই আসল হামলাকারী কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, তৃণমূল এবং তাঁকে নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে এতটা ভয় কেন যে ভয় দেখানোর মতো পথ বেছে নিতে হচ্ছে। ঘটনাটিকে তিনি রাজনৈতিক গুন্ডামি বলেও আক্রমণ করেন। পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বজায় রাখতে আদালতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই ঘটনার আগে থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। কয়েক দিন আগে অফিসের বাইরে থাকা একটি হোর্ডিং খুলতে গিয়ে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুরসভার দাবি ছিল, হোর্ডিংটি বেআইনি ভাবে লাগানো এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল।
ওই ঘটনার জেরে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণী থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তও চলছে।
তদন্তের সূত্রে বুধবার থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিষেককেও এই মামলায় তলব করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই অফিসে ভাঙচুরের নতুন অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তাদের দাবি, অভিষেক শহরে না থাকার সুযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ কয়েকজন অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসের কর্মীদের উপর হামলার পাশাপাশি এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার ও টিভি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে। ফলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পুলিশি তদন্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
