দিল্লি — জনসেবাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দেশের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়ার পর এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে টানা ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।
এই মাইলফলকের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী দেশের ইতিহাসে টানা মেয়াদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেওয়ার পর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরপর জনসমর্থন পেয়ে তিনি দেশের নেতৃত্বে বহাল রয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনসেবাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যিনি বিনয়, নিষ্ঠা এবং কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে নিরন্তর কাজ করেন, তিনিই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন।’
এর পাশাপাশি তিনি একটি সংস্কৃত শ্লোকও ভাগ করে নেন, যেখানে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকা এবং নেতৃত্বে বিনয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বুধবার নরেন্দ্র মোদীর টানা দায়িত্বপালনের সময়কাল ৪,৩৯৯ দিনে পৌঁছেছে। এর আগে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু টানা ৪,৩৯৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মোট সময়ের হিসেবে ১৪ বছরেরও বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন, তাঁর মেয়াদ ছিল বিচ্ছিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্য উপলক্ষে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এনডিএ জোটের একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, জোটসঙ্গী দলগুলির প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
এই উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সময়কালকে স্বাধীনতার পর ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই সময়ে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে গণতন্ত্রের জননী হিসেবে নিজের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করেছে।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, এই সাফল্য দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা, সমর্থন এবং ভালবাসার প্রতিফলন। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ৪,৩৯৯ দিনের যাত্রা আত্মনির্ভর, শক্তিশালী এবং উন্নত ভারত গঠনের এক সোনালি অধ্যায়।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকেও শুভেচ্ছার বন্যা দেখা গিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ভারতের বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব বৃদ্ধিতে নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোরও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই মাইলফলক দীর্ঘদিনের জনসেবা এবং নেতৃত্বের প্রতিফলন।
গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নতুন সংসদ ভবন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প, কর্তব্য পথ, বন্দে ভারত ট্রেন, স্ট্যাচু অব ইউনিটি, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত আইএনএস বিক্রান্ত, কাশ্মীর রেল সংযোগ, নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নমো ভারত আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা এবং গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলি এই সময়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, টানা তিনটি নির্বাচনে জনগণের সমর্থন এবং দীর্ঘতম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নজির নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দেশের ইতিহাসে এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। উন্নত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে আগামী দিনের কর্মসূচির উপর এখন নজর থাকবে দেশবাসীর।
