সংবাদ কলকাতা— ভারতীয় ক্রিকেট দলে প্রথম বার ডাক পেয়েছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ ক্রিকেটার কুমার কুশাগ্র। নিউ জিল্যান্ড সফরে এক দিনের সিরিজ়ের শেষ দু’টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেতে পারেন তিনি। তবে কুশাগ্রের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার কাহিনি অন্য রকম। ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল না তাঁর। বাবার ইচ্ছাতেই শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের পাঠ। আর ছেলেকে ক্রিকেট শেখাতে ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের গবেষণার শিক্ষাকেই হাতিয়ার করেছিলেন তাঁর বাবা শশীকান্ত।
ঝাড়খণ্ডে যুগ্ম কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন শশীকান্ত। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির রাজ্য থেকে আরও এক ক্রিকেটারকে তুলে আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ক্রিকেটের মাধ্যমে ছেলের সামনে খুলে যেতে পারে সাফল্য ও প্রতিষ্ঠার নতুন দরজা। সেই লক্ষ্যেই মাত্র ছ’বছর বয়সে কুশাগ্রকে ক্রিকেট শেখাতে শুরু করেন তিনি।
কিন্তু ছেলেকে কোনও ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করাননি শশীকান্ত। নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর প্রথম কোচ। আশ্চর্যের বিষয়, শশীকান্ত নিজে কোনও দিন ক্রিকেট খেলেননি। ক্রিকেটের খুঁটিনাটি সম্পর্কেও তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না। তাই ছেলেকে শেখানোর জন্য বইকেই শিক্ষক করে নেন তিনি।
ক্রিকেটার বব উলমার ও ডন ব্র্যাডম্যানের লেখা বই পড়ে ব্যাটিংয়ের নানা কৌশল শেখার চেষ্টা করেন শশীকান্ত। কোন শট কী ভাবে খেলতে হয়, ব্যাট ধরার সময় হাতের অবস্থান কেমন হবে, আঙুল ও কব্জির ব্যবহার কী ভাবে করতে হবে—সব কিছু খুঁটিয়ে পড়ে নোট তৈরি করতেন তিনি। তার পর সেই নোট অনুসরণ করেই ছেলেকে অনুশীলন করাতেন।
এক সাক্ষাৎকারে শশীকান্ত জানিয়েছেন, ছেলেকে দ্রুত তৈরি করার জন্যই এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কোনও দিন ওকে অ্যাকাডেমিতে পাঠাইনি। তাতে অনেক সময় নষ্ট হত। ভেবেছিলাম, ওকে দ্রুত সফল করতে হলে নিজেদেরই বই পড়ে শিখতে হবে। বড় বড় ক্রিকেটারের লেখা পড়েছি। সেখান থেকে বিভিন্ন বিষয় শিখে প্রতিটি শট নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন ধরনের পুল শট কী ভাবে খেলতে হয়, তা-ও জানার চেষ্টা করেছি।’
তবে ক্রিকেট শেখার এই পদ্ধতির পিছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সময় ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের কাছ থেকে গবেষণার গুরুত্ব শিখেছিলেন শশীকান্ত। কোনও বিষয়কে গভীর ভাবে পড়া, তথ্য খতিয়ে দেখা এবং সঠিক-ভুল বিচার করার সেই অভ্যাসই ছেলের ক্রিকেট প্রশিক্ষণে কাজে লাগান তিনি।
শশীকান্তের কথায়, ‘রোমিলা থাপার বরাবর গবেষণার উপরে জোর দিতেন। আমি বিষয়টি খুব উপভোগ করতাম। কুশাগ্রকে ক্রিকেট শেখানোর সময়ও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। কোথায় হাত থাকবে, আঙুলের অবস্থান কী হবে, কব্জি কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে—এসব নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছি। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল, তা বোঝার চেষ্টা করেছি।’
বাবার এই অধ্যবসায় ও অভিনব প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কুশাগ্রের ক্রিকেটজীবনের ভিত গড়ে দিতে সাহায্য করেছে। এবার জাতীয় দলে ডাক পেয়ে নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ছোটবেলায় যে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না, সেই খেলাই এখন তাঁকে দেশের জার্সি পরার স্বপ্নের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।
previous post
