প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হিসেবে দেখেন এবং ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রূপে কল্পনা করেছেন বলে মন্তব্য করলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। শুক্রবার দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে তিনি বলেন, দ্রুত উন্নয়নই মণিপুরে জঙ্গিবাদ, অশান্তি ও অস্থিরতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে বীরেন সিং মণিপুরের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতি আয়োগের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে মণিপুর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইম্ফল পর্যন্ত রেল সংযোগ, জাতীয় সড়ক প্রকল্প, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন হলে রাজ্যের উন্নয়নের চিত্র বদলে যেতে পারে। পাশাপাশি ইম্ফল রিং রোড, উড়ালপথ এবং ইম্ফল-মোরেহ রেল প্রকল্পের জন্যও সমর্থন চেয়েছেন তিনি।
‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির প্রসঙ্গ তুলে বীরেন সিং বলেন, মণিপুরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকলেও সীমান্তবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বহু প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ‘অ্যাক্ট ফাস্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট’ এবং আঞ্চলিক সমন্বয় সেল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নীতি আয়োগের সহযোগিতা চান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS) এবং জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (JNIMS)-এর আধুনিকীকরণ হলে মণিপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ট্যুরিজম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অবকাঠামো প্রকল্পে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেন বীরেন সিং।
তিনি আরও বলেন, মণিপুরের নিজস্ব কর রাজস্ব মোট আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ। তাই কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর নির্ভরতা কমাতে রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রয়োজন।
