August 25, 2026
রাজ্য

রাজস্থান: সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ২৭ পড়ুয়া, তদন্তের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

কোটা— সরকারি স্কুলে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ল ২৭ জন পড়ুয়া। সোমবার রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন পড়ুয়ার মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরিস্থিতি বুঝে কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর খাবারের গুণমান এবং রান্নার পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার।

ঘটনার খবর পেয়ে কোটা জেলা শিক্ষা আধিকারিক রূপ সিং মীনা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন। তিনি জানান, প্রায় ২৭ জন পড়ুয়া অসুস্থ বোধ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্কুলেই চিকিৎসকদের একটি দল পাঠানো হয়।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ পড়ুয়াদের শারীরিক পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের অনেকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জেলা শিক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত পড়ুয়াদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারও। অসুস্থ পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে সকল পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই। তবে হঠাৎ করে একসঙ্গে এত জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের মূল নজর এখন স্কুলে পরিবেশিত খাবারের দিকে। খাবার খাওয়ার পরেই অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, খাবার তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাবারের কারণেই পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

ঘটনার জেরে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রান্নার সময় কী কী সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, খাবার কী ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং পরিবেশনের আগে তার মান যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এর কয়েক দিন আগেই বিহারের নালন্দাতেও দুপুরের খাবার খেয়ে পড়ুয়াদের অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে প্রায় ৩৪ থেকে ৪০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, নুনের পরিবর্তে ভুল করে রান্নায় পরিষ্কার করার গুঁড়ো মিশে গিয়েছিল। সেই ঘটনাতেও তদন্ত শুরু হয়। পরপর দুই রাজ্যে স্কুলের খাবার ঘিরে এমন ঘটনায় পড়ুয়াদের খাবারের নিরাপত্তা এবং গুণমান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজস্থানের কোটার ঘটনায় এখনও খাবারে কোনও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তদন্তের ফল প্রকাশের পরেই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য স্কুলের রান্নাঘর এবং খাবার পরিবেশনের পুরো ব্যবস্থাকে আরও কড়া নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment