শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে। রাস্তায় থুতু ফেলা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এবং বেআইনি পার্কিংয়ের মতো কাজের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ করা হবে। মঙ্গলবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই প্রসঙ্গে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজ হয়নি। এমনকি কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও বহু জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প সফল হয়নি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, শহর পরিষ্কার রাখা সরকারের দায়িত্ব। এর সঙ্গে রাজ্যের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আরও আগেই নেওয়া প্রয়োজন ছিল। দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরের বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে গ্যাস ও সার তৈরির ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে পঞ্চায়েত এলাকাতেও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে একাধিক সমস্যা ছিল। বিভিন্ন পঞ্চায়েতকে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, নজরদারির অভাবেই অনেক জায়গায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। কোথাও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও টাকা খরচ হলেও প্ল্যান্ট চালু হয়নি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কেনা ই-ভেহিকেলও বহু জায়গায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। এবার বর্জ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভাগে পৃথক করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
এদিকে, শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে এর আগে থেকেই নাগরিকদের সচেতন করে আসছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বাজার এলাকা থেকে ফুটপাত—বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মানুষকে সচেতন করেছেন তিনি। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর এবার নিয়ম ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
