প্রায় ২৫ বছর ধরে চলা সোন নদীর জলবণ্টন বিবাদের অবসান হল। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে সোন নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দিল্লিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল-সহ দুই রাজ্য ও কেন্দ্রের আধিকারিকরা।
এই চুক্তির ফলে দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ ও পানীয় জলের জোগান বাড়বে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। অমিত শাহের দাবি, লক্ষ লক্ষ কৃষক এই চুক্তির মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের এই বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া ‘সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা’র একটি উদাহরণ।

ঝাড়খণ্ড তৈরির পর ২০০০ সাল থেকে সোন নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। অবিভক্ত বিহার ১৯৭৩ সালের বাণসাগর চুক্তি অনুযায়ী সোন নদীর ৭.৭৫ মিলিয়ন একর-ফুট (MAF) জলের অংশ পেয়েছিল। পরে বিহার ভাগ হয়ে ঝাড়খণ্ড তৈরি হলে ওই জল কী ভাবে দুই রাজ্যের মধ্যে ভাগ হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন সমাধান হয়নি। নতুন চুক্তিতে বিহার পাবে ৫.৭৫ MAF এবং ঝাড়খণ্ড পাবে ২ MAF জল।
বিহারের ভোজপুর, বক্সার, রোহতাস, কাইমুর, ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল, গয়া ও পটনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই চুক্তির ফলে সেচ ও পানীয় জলের সুবিধা বাড়বে। ঝাড়খণ্ডের পালামু, গড়ওয়া-সহ সংলগ্ন এলাকাতেও জল সরবরাহের সুবিধা মিলবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।
