28 C
Kolkata
October 14, 2026
রাজ্য

কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিমানি, দল নিয়ে ধোঁয়াশা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পাঁচ মাস পর কোচবিহার জেলা পরিষদের নেতৃত্বেও বদল এল। বুধবার জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন হিমানি ইশর। একদা তৃণমূলের টিকিটে জেতা এই জনপ্রতিনিধি এখন কোন রাজনৈতিক শিবিরে রয়েছেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল, না কি বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি হিমানি। তাঁর কথায়, ‘আমি কেবল জনপ্রতিনিধি।’

বুধবার দুপুরে কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচনে ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন হিমানির পক্ষে ভোট দেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সজল তামাংয়ের উপস্থিতি ও নজরদারিতে ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহার জেলা পরিষদের মোট ৩৪টি আসনের মধ্যে ৩২টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। বাকি দু’টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। ফলে জেলা পরিষদে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। এত দিন সভাধিপতির দায়িত্বে ছিলেন সুমিতা বর্মন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জেলা পরিষদের কাজে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের একাংশের অভিযোগ ছিল, তিনি নিয়মিত জেলা পরিষদে আসতেন না। এর পর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। সেই প্রস্তাব পাস হওয়ার পর নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

নবনির্বাচিত সভাধিপতি হিমানিও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। জেলা পরিষদে তিনি শিশু ও নারী উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং ত্রাণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন। সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার এসেছে। মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ। যে ভাবে নির্দেশ দেবেন, সে ভাবে কাজ করব। বিগত দিনে সঠিক ভাবে যে কাজগুলো হয়নি, সেগুলো শেষ করার চেষ্টা করব।’

তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক শিবির নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, নাকি বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে হিমানি বলেন, ‘আমি কোনও পক্ষে নেই। আমরা কেবল জনপ্রতিনিধি। আগে জেলা পরিষদে কর্মাধ্যক্ষ ছিলাম। এখন সভাধিপতি হয়েছি।’

তাঁকে নির্দল কি না, সে প্রশ্নও করা হয়। জবাবে হাসিমুখে হিমানি বলেন, ‘তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছি না ধরে রেখেছি বলতে পারব না। এটুকু বলব, শুধু উন্নয়ন করতে চাই।’

হিমানির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও কোচবিহার জেলা পরিষদের নেতৃত্বে পরিবর্তন স্পষ্ট। এখন নতুন সভাধিপতির নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কাজ কোন পথে এগোয়, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment