সংবাদ কলকাতা: প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালে দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধনকে আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম প্রতীক বলে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পপ্রকল্প শুধু হলদিয়া নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রাজ্যকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থাননির্ভর করে তোলার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে আত্মনির্ভর করতে হবে। আমরা বড্ড ভাতানির্ভর হয়ে গিয়েছি। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
চতুর্থীর দিন সকাল ১১টা নাগাদ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন মজুমদার, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ। উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণও।
সরকারি সূত্রের দাবি, সহযোগী সংস্থা অ্যাডিপারমার বিনিয়োগে তৈরি এই কারখানায় বছরে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লক্ষ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের ক্ষমতা থাকবে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ১,৪০০ জনের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় সংস্থার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কী ভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘দুর্গাপুজোর আগে এত বড় দিন… আজ ঐতিহাসিক দিন।’
বিদেশ থেকে ফেনল ও অ্যাসিটোন আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আগে বিদেশ থেকে ফেনল, অ্যাসিটোন আনতে হত। আজ থেকে সেটা শূন্য হয়ে গেল। এটাই প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারত।’ নতুন কারখানাকে দেশের শিল্পোৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানির বিকল্প তৈরির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রাজ্যে এসে কাজ করতে পারেন। যোগ্য কর্মীদের স্বাগত জানানো হবে, এ ক্ষেত্রে কোনও সঙ্কীর্ণতা থাকা উচিত নয়। তবে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকার প্রার্থীদের প্রস্তুত করার উপর জোর দেওয়া হবে।
এই লক্ষ্যেই উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্থানীয় শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘পূর্ণেন্দুবাবু তাঁর শিল্পোদ্যোগে নিয়োগের জন্য দক্ষ স্থানীয় কর্মী চেয়েছেন। আমি মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে বলব, স্থানীয় আইটিআই পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো কী ভাবে বাড়ানো যায়, তা দেখতে।’
হলদিয়ার এই নতুন কারখানাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আরও শিল্পবিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের কাছে রাজ্যে একটি তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্য সরকার সব রকম সাহায্য করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।
প্রায় দু’দশক পর হলদিয়ায় এত বড় বিনিয়োগ এসেছে বলে দাবি রাজ্যের। ২০১৪ সালে প্রকল্পটির সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে উৎপাদন শুরু হলে রাসায়নিক শিল্পে দেশের নির্ভরতা কমানো, স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।
