নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ায় নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন ঘিরে শিল্পমহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে ঘিরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রাসায়নিক শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুরের আগেই হলদিয়ায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সেখানে পৌঁছে নতুন প্লান্ট ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। প্লান্টের ভিতরে থাকা মন্দিরে আরতিও করেন তিনি। পরে ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী।
এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য, দেশে উচ্চমানের ফেনল ও অ্যাসিটোনের উৎপাদন বাড়ানো এবং রাসায়নিক পণ্যের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমানো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে পূর্ব ভারতে রাসায়নিক শিল্পের পরিধি আরও বাড়বে। পাশাপাশি, মূল কারখানাকে ঘিরে অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহণ, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রকল্পের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বছরে ৩৪৫ কিলোটন ফেনল এবং ২১৫ কিলোটন অ্যাসিটোন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই রাসায়নিক বিভিন্ন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে উৎপাদন বাড়লে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। তবে প্রকৃত উৎপাদন, কর্মসংস্থানের পরিমাণ এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কতটা কমবে, তা প্রকল্পের কার্যক্রম ও বাজারের চাহিদার উপর নির্ভর করবে।
শিল্পের এই সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যে শিল্পের অগ্রগতি কেউ আটকাতে পারবে না। তাঁর বক্তব্য, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ আরও এগিয়ে যাবে এবং আগামী দিনেও রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসবে। তবে বিনিয়োগের ঘোষণার পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা এবং স্থানীয় মানুষের কতটা উপকার হবে, সেদিকেও নজর থাকবে।
শিল্পমহলের একাংশের মতে, হলদিয়ায় রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকাঠামো শক্তিশালী হলে এই অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজে পাওয়া গেলে প্লাস্টিক, রেজিন, আবরণ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র উপকৃত হতে পারে। ফলে এই প্রকল্পের প্রভাব শুধু মূল কারখানাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর শিল্প-সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।
৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পকে ঘিরে তাই হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং অনুসারী শিল্পের সম্প্রসারণ সফল হলে রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিতে হলদিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
