September 17, 2026
রাজ্য

ইএসপি বন্ধ রেখে দূষণ, দুর্গাপুরে কড়া হুঁশিয়ারি

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর— খরচ বাঁচাতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর বা ইএসপি বন্ধ রেখে শিল্পাঞ্চলে দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও কারখানার চিমনি দিয়ে দেদার কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বিশেষ করে আকাশ মেঘলা থাকলে চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া বেরোনোর প্রবণতা আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি ঘিরে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে নতুন করে পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দুর্গাপুর নগর নিগমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্টেট ডায়েরি মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি কারখানাকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকা ইএসপি যন্ত্র সবসময় চালু রাখা হচ্ছে না। খরচ কমানোর জন্য কখনও কখনও যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।


কারখানার এক কর্মীর দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মোটরের ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত খরচ কমানোর জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে ইএসপি বন্ধ রাখা হয়। তবে এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশের উপর দূষণের প্রভাব জানা সত্ত্বেও কীভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র বন্ধ রাখা যায়? বিপুল আর্থিক খরচ বাঁচাতে পরিবেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক দেবাশিস মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে দূষণ ছড়াই না। দূষণ নিয়ন্ত্রণের সমস্ত ব্যবস্থা মেনে চলা হয়। যন্ত্র বন্ধ রাখার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।’

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জামানার যে কুঅভ্যাস ছিল, সেই কুঅভ্যাস আর বরদাস্ত করা হবে না। পরিবেশের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যাবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘দূষণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ভূমিকা নেওয়া হবে। মানুষের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষার জন্য যতদূর যেতে হয়, আমরা ততদূর যাব। কোথাও দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখার অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ এবং জনপ্রতিনিধিদের কড়া বার্তার পর এখন সংশ্লিষ্ট কারখানায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর রয়েছে, তা নিয়ে নজরদারি বাড়ে কি না, সেদিকেই নজর।

Related posts

Leave a Comment