ডিএলএফের প্রিমিয়াম ও সুপার-লাক্সারি প্রকল্পে আগ্রহী উচ্চবিত্ত ক্রেতারা
সংবাদ কলকাতা: দেশের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে কলকাতার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শুধু দিল্লি-এনসিআর, মুম্বাই বা বেঙ্গালুরু নয়, এখন কলকাতার বহু উচ্চ আয়ের পরিবারও প্রিমিয়াম ও সুপার-লাক্সারি আবাসনের দিকে ঝুঁকছেন। এমনটাই জানালেন ডিএলএফ (DLF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ বিজনেস অফিসার আকাশ ওহরি (Akash Ohri)। সংবাদ কলকাতাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও জোরদার হবে বলে সংস্থার বিশ্বাস।
আকাশ ওহরি বলেন, কলকাতার বহু পরিবার ইতিমধ্যেই ডিএলএফের বিভিন্ন বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন। শুধু নিজেদের বসবাসের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যেও অনেকে এই ধরনের সম্পত্তি কিনছেন। তাঁর মতে, কলকাতার ক্রেতাদের মধ্যে উচ্চমানের জীবনযাপন, আধুনিক পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের আবাসনের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি জানান, আগে বিলাসবহুল আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্রেতাই নিজেদের শহরেই বিনিয়োগ করতে চাইতেন। কিন্তু এখন সেই প্রবণতা বদলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ী পরিবার নিজেদের শহরের বাইরে উন্নত আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ডিএলএফের অন্যতম সুপার-লাক্সারি প্রকল্প দ্য ডাহলিয়াস (The Dahlias) প্রসঙ্গেও আশাবাদী আকাশ ওহরি। তিনি জানান, ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পের ৩২টি আবাসন বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির প্রায় ৬০ শতাংশ মজুত ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতে অতি-বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত এবং গভীর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল আবাসনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতাদের আগ্রহে তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং উন্নত সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা, সবুজ পরিবেশ এবং বিশ্বমানের পরিষেবার কারণে উচ্চবিত্ত ক্রেতারা এই ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে দেখছেন।
ডিএলএফের আগামী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আকাশ ওহরি। তিনি জানান, সংস্থা ইতিমধ্যেই গোয়ায় নতুন বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্প মূলত দ্বিতীয় বাড়ি এবং জীবনযাপনকেন্দ্রিক বিনিয়োগে আগ্রহী ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এখনও প্রকল্পটির মূল্য নির্ধারণ হয়নি, তবে অবস্থান এবং সুযোগ-সুবিধার কারণে এর ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ডিএলএফের লক্ষ্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিক্রয় এবং একই পরিমাণ অর্থের নতুন প্রকল্প বাজারে আনা। তাঁর দাবি, উন্নত মানের আবাসনের চাহিদা আগামী দিনেও শক্তিশালী থাকবে এবং ভারতের প্রিমিয়াম আবাসন বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
প্রায় তিন দশক ধরে ডিএলএফের সঙ্গে যুক্ত আকাশ ওহরি ২০১৮ সাল থেকে সংস্থার সর্বভারতীয় আবাসন ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডিএলএফ ফাইভ এবং দ্য ক্যামেলিয়াসের মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাজারজাতকরণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
