সংবাদ কলকাতা— কোনও নির্দিষ্ট ঠিকানায় কোনও ব্যক্তির বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড (Aadhaar Card) গ্রহণযোগ্য হলেও, সেটিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। বেআইনি দখলদার সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য (Justice Sabyasachi Bhattacharyya) এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্য (Justice Supratim Bhattacharya)-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আধার-সহ অন্যান্য সরকারি নথি কোনও ব্যক্তির বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আদালত স্পষ্ট করেছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। কেন্দ্রীয় সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) আগেই এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে আধার তৈরির আগে আবেদনকারীর ঠিকানার তথ্য যাচাই করা হয়। সেই কারণেই কোনও ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করেন কি না, তার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ডকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ করেছে হাই কোর্ট।
আদালত আরও জানিয়েছে, শুধু আধার কার্ড নয়, ভোটার পরিচয়পত্র, গ্যাসের বিল-সহ অন্যান্য সরকারি নথিও কোনও ব্যক্তির বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রমাণ এবং চূড়ান্ত প্রমাণ এক বিষয় নয়। কোনও সরকারি নথি একাই কোনও সম্পত্তির উপর বৈধ অধিকার বা মালিকানা প্রমাণ করে না বলেও আদালত স্পষ্ট করেছে।
এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড (Calcutta Dock Labour Board) এবং ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টের (Calcutta Port Trust) আবাসন উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে। বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর (Syama Prasad Mookerjee Port) কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০০টিরও বেশি আবাসিক কোয়ার্টার ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই কোয়ার্টারগুলিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনও নোটিস বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই তাঁদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একক বেঞ্চে আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাঁরা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে তাঁরা ওই আবাসনে বসবাস করছেন। তাই বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়ে উচ্ছেদ করা আইনসম্মত নয়।
অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, আধার কার্ড বা ভোটার পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেউ ওই আবাসনে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দাবি করতে পারেন না। তবে ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, বাসিন্দাদের কাছে থাকা সরকারি নথি থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করেন। ফলে তাঁদের বেআইনি দখলদার ঘোষণা করার আগে আইন মেনে তদন্ত এবং শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেক পরিবারকে পৃথকভাবে নোটিস দিতে হবে এবং কেন তাঁদের উচ্ছেদ করা হবে, তার কারণ জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক বাসিন্দাকে নিজের বক্তব্য, নথি এবং প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আদালত আরও জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনও ভবন ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে উপযুক্ত আইনসিদ্ধ কর্তৃপক্ষকেই।
মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী শুভঙ্কর নাগ (Subhankar Nag) বলেন, আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সরকারি নথিকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
