পাটনা, ৩ জুন: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর সরকারি বাসভবন ঘিরে বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। এ বার এই ইস্যুতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-কে নিশানা করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধারী।
শেখপুরায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বাসভবন কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা বংশানুক্রমিক অধিকারের জায়গা নয়। জনগণের করের টাকায় তৈরি এই আবাসন শুধুমাত্র দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের সরকারি কাজের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়। পদ ছাড়ার পর নিয়ম মেনে তা ছেড়ে দেওয়াই উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্রাট চৌধারী দাবি করেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজেও একাধিক সরকারি বাসভবনে থেকেছেন। তবে কখনও সেগুলিকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করেননি। মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যে বাড়িতে থেকেছেন, মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম মেনে তা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উদাহরণ টেনে বলেন, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নীতীশ কুমার কখনও সরকারি নির্দেশের অপেক্ষা না করে নিজে থেকেই বাসভবন খালি করেছেন। এটাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো। দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাসভবনে রাবড়ি দেবী ও লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। সম্প্রতি রাজ্যের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন বিভাগ রাবড়ি দেবীকে ১৫ দিনের মধ্যে বাংলো খালি করার নির্দেশ দেয়। সরকার জানিয়েছে, ওই বাসভবন বর্তমানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী নন্দ কিশোর রামের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রাবড়ি দেবীর জন্য বিকল্প সরকারি আবাসনও বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি পুরনো বাসভবন ছাড়েননি।
অন্যদিকে, রাবড়ি দেবী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এই বাড়ি ছাড়বেন না। প্রয়োজনে প্রশাসন বলপ্রয়োগ করতে পারে, তবুও তিনি সরে যাবেন না বলে সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বিতর্কে যোগ দিয়েছেন জনশক্তি জনতা দলের প্রতিষ্ঠাতা তেজ প্রতাপ যাদবও। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে নীতীশ কুমারের সরকারি বাসভবন খালি করা উচিত, তারপর রাবড়ি দেবীর বিষয় নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।
তবে বিহার সরকারের মন্ত্রী এমডি জামা খান অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আইন এবং সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
এদিকে সম্রাট চৌধারী নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দল বা নেতৃত্ব যেদিন দায়িত্ব শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে ব্যক্তিগত বাড়িতে ফিরে যাবেন। রাজনীতি তাঁর কাছে জনসেবার মাধ্যম, ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগের উপায় নয় বলেও মন্তব্য করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
