কলকাতা, ৮ জুলাই — কলকাতা পুর এলাকার মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশন পাওয়া রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার আনুমানিক পাওনার ৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, অতীতের পেনশন বিতরণের তথ্য ব্যাঙ্কগুলির কাছে সম্পূর্ণ এবং যাচাই করা অবস্থায় না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই আপাতত আংশিক অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পেনশনভোগীরা দ্রুত কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পান।
অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসাব নির্ধারণে পশ্চিমবঙ্গের মহালেখা পরীক্ষকের দপ্তরের তথ্য, ২০০৯ সালের বেতন কাঠামোর আওতায় ঘোষিত মহার্ঘ ভাতার হার এবং সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সূত্র অনুসরণ করা হবে।
এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অধীনে একটি পৃথক ব্যাঙ্ক পেনশন পরিচালনা পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে পেনশনভোগীদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হলেই অনুমোদিত অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীর ব্যাঙ্ক হিসাবে জমা হবে।
সরকার ব্যাঙ্কগুলির কাছে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের পেনশন বিতরণের সম্পূর্ণ তথ্যও চেয়েছে। সেই তথ্য পাওয়ার পর অবশিষ্ট বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসাব নির্ধারণ করে পরবর্তী কিস্তিতে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে। বকেয়া নির্ধারণে পশ্চিমবঙ্গের মহালেখা পরীক্ষকের (Accountant General, West Bengal) তথ্য, ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো (ROPA 2009) অনুযায়ী ঘোষিত মহার্ঘ ভাতার হার এবং সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সূত্র ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, ২০০৮ সালের পর অবসর নেওয়া অনেক পেনশনভোগী আপাতত মাত্র ৫০ শতাংশ বকেয়া পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, কলকাতা পুর এলাকার বাইরে যাঁরা কোষাগারের মাধ্যমে পেনশন পান, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের সম্পূর্ণ বকেয়া পেয়েছেন। ফলে দুই শ্রেণির পেনশনভোগীদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে সকলকে সমান সুবিধা দেওয়ার দাবিতে শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
এই কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (WBiFMS)-র অধীনে একটি ব্যাঙ্ক পেনশন পরিচালনা পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে দ্রুত পেনশনভোগীদের তথ্য যাচাই করে অনুমোদিত অর্থ তাঁদের ব্যাঙ্ক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী পরিষদের (Government Employees Council) রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল (Debashis Shil) দাবি করেছেন, কলকাতা পুর এলাকার বাইরে কোষাগারের মাধ্যমে পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের তুলনায় ব্যাঙ্কভুক্ত পেনশনভোগীরা কম অর্থ পাচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের সম্পূর্ণ বকেয়া দেওয়ার দাবিতে খুব শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
