July 7, 2026
খেলা

মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আটলান্টা, ৮ জুলাই : নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুরন্ত লড়াইয়ে মিশরকে (Egypt) ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা (Argentina)। একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ (Enzo Fernandez)।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সহজে হার মানানো যায় না। সেই বার্তাই আরও একবার ফুটবল বিশ্বকে দিল আর্জেন্টিনা। এই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিলেন অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি। একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেও একটি গোল করেন তিনি। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বাস সম্পূর্ণ করেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল মিশর। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিম (Yasser Ibrahim)-এর হেডে এগিয়ে যায় মিশর। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ পেলেও গোল শোধ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। উল্টে দ্বিতীয়ার্ধে ৬২ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান ২-০ করেন মোস্তাফা জিকো। মোস্তাফা জিকো (Mostafa Zico) ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আর্জেন্টিনার বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দেয়। ৭৯ মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (Cristian Romero)। সেই গোলেই ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরে পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চার মিনিট পর আবারও আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি। লাউতারো মার্তিনেজের (Lautaro Martinez) তৈরি করা আক্রমণ শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে আসে। প্রথম শট গোলরক্ষক আটকালেও বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ৮৩ মিনিটে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। ঠিক সেই সময় ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের উড়ন্ত ক্রসে অসাধারণ হেড করে বল জালে জড়ান এঞ্জো ফের্নান্দেজ। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা।

ম্যাচে গোল করলেও শুরুতে সহজ একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন মেসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করে মিশর। গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত মেসির অভিজ্ঞতা এবং আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে মিশরের রক্ষণ।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেল। প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণে একাধিকবার চাপে পড়তে হয়েছে লিয়োনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni) দলকে। নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment