লন্ডনের ঐতিহাসিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডসে অনুষ্ঠিত হল তৃতীয় বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। ব্যারোনেস উদ্দিনের আতিথ্য এবং ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের অসামান্য অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহ্যবাহী চলমন্ডলি রুম অ্যান্ড টেরেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারোনেস উদ্দিন, ব্যারোনেস উইন্টারটন অব ডনকাস্টার, প্রাক্তন সাংসদ বিরেন্দ্র শর্মা, আতিক চৌধুরী, খালেদা চৌধুরী, হাসিনা খান এবং শিলা রশিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন বিবিসি ও স্কাই নিউজ উপস্থাপক সারাহ লকেট।
দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী সমাজ, বিশেষ করে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই পুরস্কারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি পান এসবিআই ইউকের সিইও শকুন্তলা সান্যাল, ফ্যাশন ডিজাইনার জয়া মিশ্র, গুডএস হাসপাতালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোমা চক্রবর্তী, এনটিভি ইউরোপের সিইও সুব্রিনা হোসেন, ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. পারভেজ ইকবাল হারিস, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ড. সৈয়দ রাগিব আলি, এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা তপন রায়, সেন্ট সেবাস্টিয়ানস স্কুলের অধ্যক্ষ ড. এম.পি. রোজারিও, প্যারালিম্পিক কমিটি অব ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি সত্যপ্রকাশ সাংওয়ান, রাজীব সভারওয়াল, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, প্রকাশ ঘোষ, ড. চিন্ময় রায়, সোমবুদ্ধ ঘোষ, সোহানি হোসেন, অধ্যাপক বিশ্বজয় চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী, রাজর্ষি দাস এবং ঋতেশ দাস।
এছাড়াও সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি, ইউইএম-আইইএম গ্রুপ, ডে’স মেডিক্যাল, গো এভরিহোয়্যার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং শ্রীনাথ গ্লোবাল-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানকে উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল সমাজসেবী প্রয়াত দাবিরুল ইসলাম চৌধুরী ওবিই-কে মরণোত্তর বিশেষ সম্মান প্রদান। সমাজকল্যাণ ও মানবিক কাজের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে স্মরণ করে এই সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে পুরস্কারপ্রাপকদের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ গাইডেড ট্যুরের আয়োজন করা হয়। পরে ব্যারোনেস উদ্দিনের আয়োজিত নেটওয়ার্কিং লাঞ্চে বিভিন্ন দেশের অতিথি, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।
ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকের ডিরেক্টর সায়ন্তন দাস অধিকারী বলেন, বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে উৎকর্ষ, নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং সমাজসেবার স্বীকৃতি দেয়। এই মঞ্চ ব্রিটেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং পেশাগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
