দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পুকুরে নেমে আঙুল দেখিয়ে জানাচ্ছেন কোথায় নাবালিকার দেহ রয়েছে। তাঁর দেখানো স্থান থেকেই উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি দেহ। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তিই এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল
ভিডিওটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুকুরপাড়েই প্রভাসকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশি হেফাজতে এনকাউন্টারে মৃত্যু
মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই সময় তিনি পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই মিলেছিল সূত্র
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নাবালিকা। এরপর আর তার খোঁজ মেলেনি। তদন্তে এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে নাবালিকাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখা যায়। নীল টি-শার্ট ও লাল টুপি পরা ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেই পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।
প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিন অভিযুক্ত— আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং পরে কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার কবীর মোল্লাকেও আটক করে পুলিশ।
কী জানা গেল প্রভাস সম্পর্কে?
সূত্রের খবর, প্রভাস মণ্ডলের বাড়ি বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায়। পরিবারে রয়েছেন তাঁর অসুস্থ বাবা, মা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে এই মামলায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর ছেলেকে নিয়ে তিনি বাপের বাড়িতে চলে যান।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাসের কোনও স্থায়ী পেশা ছিল না। কখনও ভ্যান চালাতেন, আবার সুযোগমতো অন্য কাজও করতেন। পাশাপাশি তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ। তাঁর মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, “আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।” পুলিশ সূত্রে খবর, মামলার বাকি অভিযুক্তদের সঙ্গেও প্রভাসের নেশার সম্পর্ক ছিল।
জেরায় প্রথমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা
তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রথমে ভুল তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন প্রভাস। তবে পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এরপর প্রত্যেককে আলাদা করে জেরা করে তদন্তকারীরা ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানতে পারেন।
রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাজ্যপালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়।
