30.2 C
Kolkata
June 28, 2026
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট

সংবিধানে প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে বৈষম্য!

ঢাকা, ২৮ জুন: বাংলাদেশের (Bangladesh Education System) সংবিধানে শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। এমনই দাবি উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে। লেখকদের মতে, সংবিধান ও জাতীয় শিক্ষানীতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় নাগরিকদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের (BRAC University) শান্তি ও ন্যায়বিচার কেন্দ্রের নির্বাহী অধিকর্তা শাহরিয়ার সাদাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান প্রান্তিক চৌধুরী। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের ১২ বছরের বিদ্যালয় শিক্ষা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রায় সাত বছরের শিক্ষার সমতুল্য। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় কাটালেও প্রত্যাশিত শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিন্ন, গণমুখী এবং সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের পরিবর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে সরকার মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হলেও সাধারণ মানুষের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত।

জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) ২০১০ সালে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালুর সুপারিশ করলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বাধ্যতামূলক শিক্ষা মূলত প্রাথমিক স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (UNESCO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫৫টি দেশে নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালু রয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবর্তিত চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসায় (Alia Madrasa) মূলধারার পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়ায় সেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কম খরচে শিক্ষা, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধার কারণে কওমি মাদ্রাসাও (Qawmi Madrasa) বহু দরিদ্র পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

লেখকদের মতে, এই প্রবণতার ফলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমশ সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্যের প্রতিফলন হয়ে উঠছে। সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলেও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির বহু শিক্ষার্থী এখনও সীমিত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সরকারি বিদ্যালয় অথবা মাদ্রাসার উপর নির্ভরশীল। এর ফলে শিক্ষার মান এবং ভবিষ্যতের সুযোগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment