কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তনের ধারা এবং তার কারণগুলি নিয়ে বিশদ সমীক্ষা চালাবে।
জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহানগর এবং শিল্পাঞ্চলেও সমীক্ষা চালাবে কমিটি। ইতিমধ্যেই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কাজের রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।
২০২৫ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই চলতি বছরের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়।
অমিত শাহ এর আগে জানিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই এই কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নাওলেকর জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত জেলা, শহর এবং আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অভিবাসন এবং তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে। পাশাপাশি পরিবর্তনের কারণ চিহ্নিত করে সরকারের কাছে সুপারিশও জমা দেবে কমিটি।
তিনি আরও জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ, হেফাজত এবং প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কার্যকর ব্যবস্থা ও আইনি কাঠামো নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি। প্রয়োজনে যে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার বা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।
কমিটিকে এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় বৃদ্ধির সুযোগও রাখা হয়েছে।
