কলকাতা — বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে তদন্তের স্বার্থে ফের সিআইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে ভবানী ভবনে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি সিআইডি দপ্তরে পৌঁছে যান। একই মামলায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। বিকেলে তিনিও ভবানী ভবনে পৌঁছন।
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই মামলার তদন্তে সহযোগিতা করছেন অভিষেক। আদালত জানিয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। সেই রক্ষাকবচ নিয়েই তিনি সিআইডি-র প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।রবিবার সকাল থেকেই ভবানী ভবন চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। ছুটির দিন হলেও একাধিক সিআইডি আধিকারিক দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে একই মামলায় গত সপ্তাহে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক। সেদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময় তদন্তকারীরা তাঁকে আবার হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ১৬ জুন আরও একটি মামলায় তলব করেছে সিআইডি। এছাড়াও প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। ফলে পরপর একাধিক তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়নি বা তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর থাকায় তদন্তের স্বার্থে তাঁকে বারবার তলব করেছে সিআইডি।
এদিকে, এই মামলার তদন্তে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়কেও খোঁজা হচ্ছে। তাঁকে খুঁজতে সম্প্রতি কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। যদিও সেখান থেকে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কোনও সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।
