November 2, 2026
রাজ্য

ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বয়ান, মেয়েকেও তলব পুলিশের

সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এ বার তদন্তকারীদের কাছে স্বামী ইন্দ্রনীলের সঙ্গে মতানৈক্যের কথা জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, জেরায় মধুছন্দা জানিয়েছেন, ইন্দ্রনীল তাঁর কোনও কথাই শুনতেন না। অন্য দিকে, এই মামলায় সেন দম্পতির কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে তলব করা হয়েছে।

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই মামলায় আগেই ইন্দ্রনীলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এ বার তাঁর স্ত্রী ও কন্যার ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মামলার এফআইআরে আরও কয়েক জনের নাম রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মধুছন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে ডাকা হয়েছিল। সেই জেরাতেই স্বামীর সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে মধুছন্দার বক্তব্যের সত্যতা বা মামলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়ায় আপাতত তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো যাবে।

এই মামলায় এ বার নজরে সেন দম্পতির কন্যাও। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেই লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর ২টোয় তাঁকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ও সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া টাকার বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন। এফআইআরে নাম থাকা অন্য অভিযুক্তদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মধুছন্দা সেন ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংস্থার আত্মপ্রকাশ বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এই সংস্থার নাম ব্যবহার করেই পুজোর বিশেষ পাস বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, ওই পাস বিক্রির সঙ্গে ইউনেস্কোর অনুমোদন বা সরাসরি যোগ রয়েছে। যদিও অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনেস্কোর সঙ্গে এ ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না।


মামলার তদন্তে পরে যুক্ত হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ইন্দ্রনীলের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। গত ২৮ অক্টোবর ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে গেলে সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায়।

আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা দু’জনেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মধুছন্দার আবেদন মঞ্জুর হলেও ইন্দ্রনীলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে গ্রেপ্তারির পর তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। শীর্ষ আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের কাছে এখন মূল প্রশ্ন, পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা লেনদেন হয়েছিল, সেই অর্থ কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল। স্ত্রী ও কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজতে চাইছে পুলিশ। তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলেই আইনত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

Related posts

Leave a Comment