নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— শীতের মরসুমে কমলালেবুর স্বাদ নিতে দার্জিলিং বা সিটং যাওয়ার অপেক্ষা আর নয়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরেই তৈরি হয়েছে কমলালেবুর বাগান। সারি সারি গাছে ঝুলছে কমলালেবু। বাগানে ঢুকতেই পাওয়া যাচ্ছে ফলের মিষ্টি সুবাস। সমতলের বুকে এমন বাগান দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ।
অশোকনগরের বাসিন্দা নারায়ণ মণ্ডল প্রায় আট বিঘা জমিতে এই কমলালেবুর বাগান গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরে বাগানে ফলন আগের কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এ বার প্রায় ৭৫টি গাছে কমলালেবু ধরেছে। ফলনের পাশাপাশি ফলের স্বাদ ও সুগন্ধ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী তিনি। নারায়ণের মতে, তাঁর বাগানের কমলালেবুর স্বাদে রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।
তবে সমতলের আবহাওয়ায় কমলালেবুর গাছ বাঁচিয়ে রাখা সহজ নয়। বিশেষ করে এ বছর দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গরম থাকায় গাছের পরিচর্যা করতে বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়েছে। নারায়ণ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপ থেকে গাছগুলিকে রক্ষা করতে বিশেষ ধরনের তাপ নিরোধক গ্রিন নেট ব্যবহার করেছেন তিনি। এই জাল গাছের উপর সরাসরি রোদের তাপ কমাতে এবং তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এ বছর বাগানের গাছের পরিচর্যা ও ফলন নিশ্চিত করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

কী ভাবে সমতলের মাটিতে কমলালেবুর ফলন সম্ভব করছেন নারায়ণ? নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে গাছের গোড়ার মাটি খুঁড়ে প্রথমে ভার্মিকম্পোস্ট, তার উপর ভাত এবং ফের ভার্মিকম্পোস্ট দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। ফুল আসার পর এবং ফলের কুঁড়ি ধরার সময়ও একই পদ্ধতিতে পরিচর্যা করা হয়। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে সাহায্য করেছে। বাগানের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন সাত থেকে আটজন শ্রমিক।
রবিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই বাগান। প্রথম দু’দিনেই বেশ ভাল সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। বাগানে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ১০ টাকা টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারায়ণের বক্তব্য, বেশি সংখ্যক মানুষ যাতে সামান্য খরচে বাগান ঘুরে দেখতে পারেন, সেই কথা মাথায় রেখেই টিকিটের দাম কম রাখা হয়েছে।
তবে আপাতত বাগান থেকে কমলালেবু কিনতে পারবেন না দর্শনার্থীরা। নারায়ণ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বাগানটি মূলত ঘুরে দেখার জায়গা হিসেবেই খুলে দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের কথা বিবেচনা করে গাছ থেকে ফল পেড়ে বিক্রির কোনও পরিকল্পনা নেই। আগামী ১০ জানুয়ারি নাগাদ বাগান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। ফলে শীতের মরসুমে সীমিত সময়ের জন্যই অশোকনগরের এই কমলালেবুর বাগান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।
