November 1, 2026
রাজ্য

সারের ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, নদীতে আটকে চালক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার— সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝনদীতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেতুর একাংশ। সেতুর সঙ্গে নদীর জলে পড়ে গেল সারের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়িকাবাড়ি এলাকায়। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুরনো সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়িকাবাড়ি এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে একটি নদী। নদীর দু’পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১৯৯৭ সালে বাম আমলে এই সেতু তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বহু মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল সেটি। বৃহস্পতিবার সকালে সারের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক সেতুর উপর দিয়ে যাচ্ছিল। মাঝনদীতে পৌঁছতেই আচমকা সেতুর একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ট্রাকটিও সেই অংশের সঙ্গে জলে নেমে আটকে যায়।

প্রচণ্ড শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর মধ্যে ট্রাকটি আটকে থাকতে দেখে তাঁরা দ্রুত চালককে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। কোনওক্রমে তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটিকে নদী থেকে উপরে তোলার চেষ্টা শুরু হয়।



এই ঘটনার পর সেতুটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৯৭ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে সেতুটির যথাযথ দেখভাল হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভার বহনের ক্ষমতা কমে গেলেও প্রয়োজনীয় মেরামতির ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত করা হয়েছিল কি না, তার ভার বহনের নির্দিষ্ট সীমা কত ছিল এবং ভারী ট্রাক চলাচলের অনুমতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ঘটনার জেরে সেতুর অন্য অংশটিও বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে রয়েছে। ফলে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সেতুর ভগ্নাংশ সরানো এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাক উদ্ধারের উদ্যোগ চলছে। তবে সেতু ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ জানতে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা প্রয়োজন। তদন্তের পরেই রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।

Related posts

Leave a Comment