November 1, 2026
রাজ্য

মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির, ঠাকুরনগরে পুরসভার ঘোষণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির তৈরি থেকে ঠাকুরনগরে পৃথক পুরসভা গঠন, বারুণী মেলার পরিসর বাড়ানো— একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বনগাঁর সাংসদ তথা মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দির তৈরির জন্য জমি থাকলেও অর্থের অভাবে সম্প্রসারণের কাজ এগোচ্ছে না। সেই পরিস্থিতিতে নতুন মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

সম্মেলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মতুয়া মহাতীর্থের মন্দির আরও বড় করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। জমি থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ এগোতে পারছে না বলে তাঁকে জানিয়েছিলেন বনগাঁর সাংসদ। সেই কথা শুনেই নতুন মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থ থেকেই মন্দির নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হলে ভূমিপুজোয় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।



মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন বারুণী মেলার পরিসর বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, এই মেলার আয়োজনের জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করবে। ধাপে ধাপে বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরের মেলার মর্যাদায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ নিয়ে আয়োজকদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার আয়োজনের উদাহরণ টেনে বারুণী মেলাকেও আরও বড় করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু।

এ দিনের সম্মেলনে ঠাকুরনগরের প্রশাসনিক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার মানুষের নাগরিক পরিষেবা আরও সহজ করতে পৃথক ঠাকুরনগর পুরসভা গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, একবারে নয়, ধাপে ধাপে পুরসভা গঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের বিষয়টিও এ দিনের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সম্প্রদায়ের প্রত্যেক যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা দেখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও ঠাকুরনগরের ঐতিহ্য রক্ষায় রাজ্য সরকার পাশে থাকবে বলে জানান শুভেন্দু।সব মিলিয়ে নতুন মন্দির নির্মাণ, বারুণী মেলার সম্প্রসারণ এবং পৃথক পুরসভা গঠনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরনগরের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মন্দির নির্মাণ, পুরসভা গঠন এবং মেলাকে জাতীয় স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাজেট বরাদ্দই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Related posts

Leave a Comment