October 31, 2026
দেশ বিদেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছ’দফা অভিযোগ খাড়্গের

নয়াদিল্লি— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছ’দফা গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রতীকী ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতীকী সংসদ অধিবেশনে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া, ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ। অন্য দিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, রাহুল গান্ধীকে নতুন করে রাজনৈতিক ভাবে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

দিল্লিতে খাড়্গের বাসভবনে আয়োজিত এই প্রতীকী সংসদ অধিবেশনে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা ও সাংসদ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করে খাড়্গে অভিযোগ করেন, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

খাড়্গের উত্থাপিত ছ’টি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটি হল, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র। দ্বিতীয় অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগ, সংসদের অনুমোদন বা নজরদারি ছাড়াই নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন করা হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে খাড়্গে দাবি করেন, ইসিআইনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে কার্যত বাইরে রাখা হয়েছে। আর ষষ্ঠ অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।



খাড়্গের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপকে দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগও তোলেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের পদে থেকে কেউ রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

কংগ্রেসের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতেই এই প্রতীকী সংসদ অধিবেশনের আয়োজন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নাগরিকদের বক্তব্যও সেখানে তুলে ধরা হয়। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিবাদ।

তবে এই কর্মসূচিকে প্রকৃত সংসদীয় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া বলে মনে করার কারণ নেই। এটি বিরোধীদের আয়োজিত প্রতীকী অধিবেশন। এর আগে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে সংসদে বিরোধীদের আনা প্রস্তাবের নোটিসও খারিজ হয়েছিল। ফলে শনিবারের কর্মসূচির সরাসরি কোনও সাংবিধানিক বা আইনি প্রভাব নেই।

বিরোধীদের এই আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, সংসদীয় ব্যবস্থার অনুকরণে এ ভাবে আলাদা অধিবেশন বসানো আসলে সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদাকে খাটো করা। বিজেপির তরফে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলা হয়েছে, বাস্তব নির্বাচনে সাফল্য না পেয়ে নিজের পছন্দমতো সংসদ তৈরি করে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক নাটক বলেও কটাক্ষ করেছে শাসক দল।

ভোটার তালিকার সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী ও শাসক শিবিরের এই সংঘাত আগামী দিনেও অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অধীনে আরও বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের।

Related posts

Leave a Comment