October 31, 2026
রাজ্য

মহাকরণে ফিরছে না পূর্ণাঙ্গ সচিবালয়? বাড়ছে জল্পনা

সংবাদ কলকাতা: ঐতিহাসিক মহাকরণে কি শেষ পর্যন্ত প্রতীকী সচিবালয়ই চালু থাকবে? সংস্কারের কাজ এগোতেই সেই সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে প্রশাসনের অন্দরে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের মূল কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেছিল নতুন সরকার। সেই মতো মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছ’জন মন্ত্রীর জন্য ঘরও তৈরি করেছে পূর্ত দপ্তর। কিন্তু বাস্তবে সব দপ্তর ও শীর্ষ আধিকারিকদের সেখানে জায়গা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই। ফলে পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় মহাকরণে ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ।

২০১৩ সালে সংস্কারের কাজের জন্য রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গত মে মাসে সরকার পরিবর্তনের পর ঐতিহ্যবাহী মহাকরণে ফের প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশ মেনেই প্রথম পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করে পূর্ত দপ্তর।

দুর্গাপুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পাঁচ মন্ত্রীর জন্য ঘর প্রস্তুত করা হয়। তাঁরা হলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্যও আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ডিজির বৈঠকের জন্য একটি সম্মেলন কক্ষও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্ত্রী নিয়মিত ভাবে মহাকরণে বসে কাজ শুরু করেননি।

সংস্কারের কাজ এগোতে গিয়েই মূল সমস্যাটি সামনে এসেছে। গত ১৩ বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। নবান্নের ১৪টি তলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অফিস রয়েছে। সেগুলিকে পুরনো মহাকরণে ফিরিয়ে আনার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সম্পূর্ণ সচিবালয়ও সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ।

শ্রম, বিদ্যুৎ, আবাসন, ক্রীড়া ও সমবায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি বর্তমানে নবান্নের বিভিন্ন তলে কাজ করছে। শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মতো বড় দপ্তরগুলির অফিস রয়েছে সল্টলেক ও নিউ টাউনে। এই দপ্তরগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা মহাকরণে তৈরি করা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।



প্রশাসনের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে মহাকরণকে সম্পূর্ণ সচিবালয়ের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে প্রতীকী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করাই বাস্তবসম্মত হতে পারে। এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজির বসার ঘর তৈরি হলেও তাঁদের পৃথক বৈঠকের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা যায়নি। কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় ফিরিয়ে আনা কঠিন।

বিষয়টি নিয়ে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানিয়েছেন, সরকার যে নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করবে তাঁর দপ্তর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছ’জন মন্ত্রীর বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ ছিল। সেই মতো মন্ত্রীদের পাশাপাশি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজির কক্ষও প্রস্তুত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণে বসা শুরু করলেই অন্য মন্ত্রীরাও সেখানে কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে পূর্তমন্ত্রীর বক্তব্যেও পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় স্থানান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। তাঁর কথায়, মহাকরণ এখনও এমন অবস্থায় পৌঁছয়নি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পূর্ণ সচিবালয় নিয়ে স্থায়ী ভাবে কাজ করতে পারেন। অন্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। পুরো সচিবালয় আদৌ মহাকরণে ফিরবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ আসেনি।

ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্ম ফেরানোর ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আপাতত কয়েক জন মন্ত্রীর দপ্তর ও শীর্ষ আধিকারিকদের কক্ষ তৈরি হলেও গোটা রাজ্য প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে রাইটার্স বিল্ডিং আবার আগের ভূমিকা ফিরে পাবে কি না, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

Related posts

Leave a Comment